ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণাকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন মান্না

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে তার মনোনয়নপত্র তুচ্ছ অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

তারিখ লেখায় ভুল বা দুই জায়গায় নাম লেখার মতো ঠুনকো বিষয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা—সে মন্তব্যও করতে চাননি মান্না। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিপক্ষ এক প্রার্থীর কতিপয় আইনজীবীর বাড়াবাড়িকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

মান্না বলেন, “আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপিলে এ ধরনের খোঁড়া অজুহাত ধোপে টিকবে না। অবশ্যই প্রার্থিতা ফিরে পাবো।”

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং দু’একদিনের মধ্যেই আপিল করবেন।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি জানান, যুগপতের সঙ্গী হিসেবে বগুড়া-২ আসনে তাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। তিনি সেখানে নিজ দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি নিজস্ব অবস্থান থেকে তিনি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন, যেখানে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ঢাকায় মনোনয়নপত্র বৈধ হলে বগুড়ায় তা বাতিল হওয়া বিশ্বাসযোগ্য নয়। বগুড়ায় যেসব কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, আইনজীবীরা সহজেই তা খণ্ডন করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মান্না বলেন, “জীবনে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, কিন্তু এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কখনও পড়িনি।” বগুড়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি অবিশ্বাস্য উল্লেখ করে বলেন, এর চেয়ে আরও গুরুতর বিষয়ে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। তারপরও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী আপিল করা হবে।

এর আগে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিক রহমান মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, মনোনয়নপত্রে কয়েকটি অসঙ্গতি ও গরমিল থাকায় এটি বাতিল করা হয়েছে। তবে আপিল করলে যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মান্নার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামায় নোটারি পাবলিকের আইনজীবীর স্বাক্ষরের তারিখ ছিল ২৮ ডিসেম্বর, অথচ প্রার্থী হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্নার স্বাক্ষরের তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। একদিন আগে-পরে স্বাক্ষরের বিষয়টিকে কমিশন অসঙ্গতি হিসেবে দেখছে। এতে প্রমাণ হয়, প্রার্থী হিসেবে মান্না নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্বাক্ষর করেননি—এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে গত ২৯ ডিসেম্বর ঋণ পুনঃতফসিল করার পরও ঋণখেলাপির তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেন। ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি বাধা কেটে যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ইরানের

বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণাকে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন মান্না

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে তার মনোনয়নপত্র তুচ্ছ অভিযোগে বাতিল করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অগ্রহণযোগ্য।

তারিখ লেখায় ভুল বা দুই জায়গায় নাম লেখার মতো ঠুনকো বিষয়ে মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে কোনও ষড়যন্ত্র আছে কিনা—সে মন্তব্যও করতে চাননি মান্না। তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রতিপক্ষ এক প্রার্থীর কতিপয় আইনজীবীর বাড়াবাড়িকে তিনি অতিরঞ্জিত বলে মনে করেন।

মান্না বলেন, “আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপিলে এ ধরনের খোঁড়া অজুহাত ধোপে টিকবে না। অবশ্যই প্রার্থিতা ফিরে পাবো।”

রবিবার (৪ জানুয়ারি) সকালে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি জানান, মনোনয়নপত্র ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং দু’একদিনের মধ্যেই আপিল করবেন।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি জানান, যুগপতের সঙ্গী হিসেবে বগুড়া-২ আসনে তাকে জোটের প্রার্থী হিসেবে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। তিনি সেখানে নিজ দলীয় প্রতীক ‘কেটলি’ নিয়ে নির্বাচন করবেন। পাশাপাশি নিজস্ব অবস্থান থেকে তিনি ঢাকা-১৮ আসনেও মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন, যেখানে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন।

এ প্রসঙ্গে মান্না বলেন, ঢাকায় মনোনয়নপত্র বৈধ হলে বগুড়ায় তা বাতিল হওয়া বিশ্বাসযোগ্য নয়। বগুড়ায় যেসব কারণে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, আইনজীবীরা সহজেই তা খণ্ডন করতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মান্না বলেন, “জীবনে বহুবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছি, কিন্তু এমন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে কখনও পড়িনি।” বগুড়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি অবিশ্বাস্য উল্লেখ করে বলেন, এর চেয়ে আরও গুরুতর বিষয়ে অনেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়নি। তারপরও নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী আপিল করা হবে।

এর আগে গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে বাছাই প্রক্রিয়া শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিক রহমান মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, মনোনয়নপত্রে কয়েকটি অসঙ্গতি ও গরমিল থাকায় এটি বাতিল করা হয়েছে। তবে আপিল করলে যৌক্তিক প্রক্রিয়ায় মনোনয়নপত্র ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

রিটার্নিং কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মান্নার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত হলফনামায় নোটারি পাবলিকের আইনজীবীর স্বাক্ষরের তারিখ ছিল ২৮ ডিসেম্বর, অথচ প্রার্থী হিসেবে মাহমুদুর রহমান মান্নার স্বাক্ষরের তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। একদিন আগে-পরে স্বাক্ষরের বিষয়টিকে কমিশন অসঙ্গতি হিসেবে দেখছে। এতে প্রমাণ হয়, প্রার্থী হিসেবে মান্না নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে স্বাক্ষর করেননি—এমন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

জেলা রিটার্নিং কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শাহাদাতুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ঋণখেলাপির অভিযোগে মান্নার নির্বাচনে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তবে গত ২৯ ডিসেম্বর ঋণ পুনঃতফসিল করার পরও ঋণখেলাপির তালিকায় তার নাম থাকার বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেন। ফলে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের আইনি বাধা কেটে যায়।