বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন আট-দলীয় জোটের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় যাওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে পড়েছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া এই দলটির নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেছেন। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা দল ছাড়ার পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে গতকাল (৩ জানুয়ারি ২০২৬) তথ্যে অসংগতির কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাত্রা শুরু করা এনসিপির ভেতরে এখন ভাঙনের সুর। জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতাকে দলের অনেক শীর্ষ নেতা ‘প্রতারণা’ ও ‘নৈতিক পরাজয়’ হিসেবে দেখছেন।
এনসিপি প্রতিষ্ঠার সময় দলটির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল তারা প্রচলিত বড় দলগুলোর প্রভাবমুক্ত থেকে ৩’শ আসনে এককভাবে নির্বাচন করবে। কিন্তু গত ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান যখন আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিকে তাদের জোটভুক্ত করার ঘোষণা দেন, তখন থেকেই পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়। পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, জামায়াতের সাথে জোট করা জুলাই অভ্যুত্থানের স্পিরিটের সাথে সাংঘর্ষিক এবং এটি এনসিপির মধ্যপন্থী ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এখন পর্যন্ত দল ত্যাগ করা ১৫ নেতার মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:
- ডা. তাসনিম জারা: সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব ও রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য।
- খালেদ সাইফুল্লাহ ও তাজনূভা জাবীন: কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক।
- মুশফিক উস সালেহীন: যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেল সম্পাদক।
- আরিফ সোহেল ও মীর আরশাদুল হক: কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব।
- সৈয়দা নীলিমা দোলা: কেন্দ্রীয় সদস্য।
- এছাড়াও খান মুহাম্মদ মুরসালীন, ফারহাদ আলম ভূঁইয়া এবং আজাদ খান ভাসানীসহ আরও বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় সংগঠক পদত্যাগ করেছেন।
এনসিপি থেকে পদত্যাগের পর ডা. তাসনিম জারা ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোটার তালিকায় অসংগতির অভিযোগে গতকাল রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর আবেদনটি বাতিল করে দেন। তাসনিম জারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
এনসিপির মুখ্য যুগ্ম সমন্বয়ক মাহাবুব আলম দাবি করেছেন, মাত্র ১৫ জন নেতার পদত্যাগে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় কমিটির ২০১ জন সদস্যই জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তে একমত রয়েছেন। বর্তমানে দলটি জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে অন্তত ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এলিট ও তরুণ ভোটারদের যে বড় একটি অংশ এনসিপির ওপর ভরসা করেছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের বড় একটি অংশ দলটির প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























