আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র জাতীয় পার্টি (জাপা) এখন নির্বাচনী মাঠে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ পাচ্ছে। তবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ‘লাঙ্গল’ প্রতীকের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই জাপার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারি উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত দেবে—আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ‘লাঙ্গল’ প্রতীক জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ পাবে নাকি আনিসুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন অংশ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একদিকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে জাপাকে নিষিদ্ধের দাবি উঠছে, অন্যদিকে দলটির ভেতর ‘আসল জাপা’ দাবিকারীদের মধ্যে ভাঙন ধরেছে।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় একটি অংশ জাতীয় পার্টির দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বৃহত্তর রংপুর ও আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে জাপার প্রার্থীরা ‘নৌকার ভোট লাঙ্গলে’ পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন। জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ থেকে ২৪৩ জনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২০০ জন এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। গত শনিবার যাচাই-বাছাই শেষে জি এম কাদের (রংপুর-৩) ও মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারির (গাইবান্ধা-১) মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও রুহুল আমিন হাওলাদারের নেতৃত্বাধীন অংশ নিজেদের ‘বৈধ জাপা’ দাবি করে লাঙ্গল প্রতীকের মালিকানা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। আগামী ৮ জানুয়ারি এ বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। এদিকে, চট্টগ্রাম-৫ আসনে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের মনোনয়ন বাতিল হওয়া এবং রুহুল আমিন হাওলাদার ও কাজী ফিরোজ রশীদের নির্বাচন না করার ঘোষণা দলটির এই অংশকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।
নির্বাচনী ময়দানে জামায়াতে ইসলামীর বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া জাপার জন্য বাড়তি সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গাইবান্ধা-১ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় সেখানে শামীম হায়দার পাটোয়ারির অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। তবে এনসিপি ও অন্যান্য দলগুলো জাপাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের নির্বাচনের বিরোধিতা অব্যাহত রেখেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























