ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি প্রেসিডেন্ট: সাদ্দাম-নোরিয়েগার কাতারে মাদুরো

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের’ অভিযানের মুখে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে সরকার কিছুই জানে না।

শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস বেঁচে আছেন কি না, সরকারকে তার প্রমাণ দিতে হবে।

ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তথাকথিত মাদক চোরাচালানকারী নৌকা এবং ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পরই এই পরিস্থিতি তৈরি হলো। মাদুরোকে আটকের এই ঘটনা পানামার সাবেক সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগা এবং ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটকের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

নোরিয়েগা থেকে সাদ্দাম: যেভাবে আটক হয়েছিলেন তারা

মাদুরোর মতো ১৯৮৮ সালেও নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ এনেছিল ওয়াশিংটন। এরপর ১৯৮৯ সালে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অজুহাতে পানামায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেটি ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। মিয়ামিতে বিচারের পর ২০১০ সাল পর্যন্ত নোরিয়েগা মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে ২০১৭ সালে পানামার কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের ৯ মাস পর একটি গর্ত থেকে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। যদিও যে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (ডব্লিউএমডি) দোহাই দিয়ে ইরাক আক্রমণ করা হয়েছিল, তার কোনও অস্তিত্ব পরে পাওয়া যায়নি। ইরাকি আদালতে বিচারের পর ২০০৬ সালে সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নোরিয়েগা ও সাদ্দাম—উভয়ই একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন।

হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ ও মার্কিন নীতি

ভেনেজুয়েলার ঘটনায় হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। ২০২২ সালে হন্ডুরাসের এই সাবেক প্রেসিডেন্টকে মাদক ও দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আটক করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় আবারও তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে হন্ডুরাসের শীর্ষ কৌঁসুলি।

সূত্র: আলজাজিরা

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ডের সামনে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ: সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বন্দি প্রেসিডেন্ট: সাদ্দাম-নোরিয়েগার কাতারে মাদুরো

আপডেট সময় : ১০:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের ‘বড় ধরনের’ অভিযানের মুখে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটকের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীর অবস্থান সম্পর্কে সরকার কিছুই জানে না।

শনিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক অডিও বার্তায় রদ্রিগেজ বলেন, মাদুরো ও ফ্লোরেস বেঁচে আছেন কি না, সরকারকে তার প্রমাণ দিতে হবে।

ক্যারিবিয়ান সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তথাকথিত মাদক চোরাচালানকারী নৌকা এবং ভেনেজুয়েলার একটি ডকিং এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলার পরই এই পরিস্থিতি তৈরি হলো। মাদুরোকে আটকের এই ঘটনা পানামার সাবেক সামরিক নেতা ম্যানুয়েল নোরিয়েগা এবং ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটকের স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে।

নোরিয়েগা থেকে সাদ্দাম: যেভাবে আটক হয়েছিলেন তারা

মাদুরোর মতো ১৯৮৮ সালেও নোরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালানের অভিযোগ এনেছিল ওয়াশিংটন। এরপর ১৯৮৯ সালে মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অজুহাতে পানামায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করে যুক্তরাষ্ট্র। সেটি ছিল ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান। মিয়ামিতে বিচারের পর ২০১০ সাল পর্যন্ত নোরিয়েগা মার্কিন কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে ২০১৭ সালে পানামার কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের ৯ মাস পর একটি গর্ত থেকে সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে মার্কিন বাহিনী। যদিও যে গণবিধ্বংসী অস্ত্রের (ডব্লিউএমডি) দোহাই দিয়ে ইরাক আক্রমণ করা হয়েছিল, তার কোনও অস্তিত্ব পরে পাওয়া যায়নি। ইরাকি আদালতে বিচারের পর ২০০৬ সালে সাদ্দামের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, নোরিয়েগা ও সাদ্দাম—উভয়ই একসময় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন।

হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ ও মার্কিন নীতি

ভেনেজুয়েলার ঘটনায় হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের বিষয়টিও আলোচনায় আসছে। ২০২২ সালে হন্ডুরাসের এই সাবেক প্রেসিডেন্টকে মাদক ও দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র আটক করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু গত ১ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন। মুক্তি পাওয়ার কয়েক দিনের মাথায় আবারও তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে হন্ডুরাসের শীর্ষ কৌঁসুলি।

সূত্র: আলজাজিরা