চীন সফরের প্রাক্কালে দেশটির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে নিজের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে–মিয়ং। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিএমজি–কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদ্যমান ভুল বোঝাবুঝি দূর করে বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই তার এই সফরের মূল লক্ষ্য।
প্রেসিডেন্ট প্যালেস ‘ব্লু হাউস’–এ ফিরে আসার পর এটিই তার দেওয়া প্রথম কোনও আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার, যা দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কাছে চীন–সম্পর্কের গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে লি জে–মিয়ং বলেন, ইতিহাস, অর্থনীতি, ভূ–রাজনীতি ও নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন নিবিড়ভাবে যুক্ত। উত্তর–পূর্ব এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, গত কিছু সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি বা বিরোধ ছিল, যা সম্পর্কের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সেই দূরত্ব কমিয়ে একে অপরের উন্নয়নে সহায়ক একটি শক্তিশালী সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা।
এবারের চীন সফরে প্রেসিডেন্ট লি’র সঙ্গে থাকছে প্রায় ২০০ সদস্যের একটি বিশাল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় এই সহযোগিতা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি আর চীনের সস্তা শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন প্রযুক্তি ও মূলধনের দিক থেকে অনেক ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়াকেও ছাড়িয়ে গেছে।
লি জে–মিয়ং আরও বলেন, এখন সময় এসেছে সম্পর্কের কাঠামো পুনর্গঠন করার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং উচ্চ–প্রযুক্তি শিল্পের মতো ক্ষেত্রে আমরা এখন একটি সমান্তরাল ও সমতাভিত্তিক অংশীদারত্বের সম্পর্ক চাই।
নবায়নযোগ্য শক্তি, বিশেষ করে সৌর ফটোভোলটাইক খাতে চীনের বিশ্ব নেতৃত্বের প্রশংসা করে প্রেসিডেন্ট লি বলেন, নতুন প্রযুক্তির গবেষণায় চীনের সক্ষমতা ঈর্ষণীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীনের সঙ্গে এই সহযোগিতা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বিশাল এক ‘সুযোগের দরজা’ খুলে দেবে।
সাক্ষাৎকারের শেষে ভূ–রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তাইওয়ান প্রণালিসহ আশপাশের এলাকায় শান্তি বজায় রাখা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দক্ষিণ কোরিয়া যথারীতি ‘এক চীন’ নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
রিপোর্টারের নাম 






















