ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস সম্পর্কে যা জানা গেলো

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ৩ জানুয়ারি শনিবার মার্কিন সেনাদের হামলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ফ্লোরেসের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার গুরুত্ব আবার আলোচনায় এসেছে। টিনাকুইলোর সাধারণ ফেরিওয়ালার মেয়ে থেকে কারাকাসের ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসা সিলিয়া ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার আধুনিক রাজনৈতিক পরিসরে অন্যতম প্রভাবশালী। কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান এবং হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলার শাসক পরিসরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমের ছোট শহর টিনাকুইলোতে একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন ফ্লোরেস। তিনি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান ছিলেন। বেড়ে ওঠেন মাটির ঘরে। তার পিতা ছিলেন ফেরিওয়ালা। ভালো সুযোগের খোঁজে পরে তার পরিবার কারাকাসে চলে আসে। সেখানে তিনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারি আইন অধ্যয়ন করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় পুলিশ স্টেশনে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে। পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইনজীবী হিসেবে দশ বছর কাজ করেন। শ্যাভেজের আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জনের পর তিনি তাকে উপদেষ্টা হিসেবে সহায়তা করতে শুরু করেন।

ফ্লোরেসের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে কারাকাসে ‘কারাকাজো’ দাঙ্গার সময়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টেট টেলিভিশনে তিনি পরে বলেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে একটি বিপ্লবী আহ্বান জাগিয়ে তোলে। ওই সময়ে তিনি নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে পরিচিত হন।মাদুরো তখন ছিলেন শ্যাভেজের উপদেষ্টা। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ফ্লোরেস ২০০০ সালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সংসদের নেতা হন এবং ২০১২ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন। ফার্স্ট লেডি হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও মাদুরোর প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন। কেউ কেউ তাকে ‘লেডি ম্যাকবেথ’ নামে ডাকেন, আবার তিনি নিজে নিজেকে ‘প্রথম বিপ্লবী যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেছেন। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ডের সামনে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ: সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা

ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস সম্পর্কে যা জানা গেলো

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ৩ জানুয়ারি শনিবার মার্কিন সেনাদের হামলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে বন্দি করা হয়েছে। এই ঘটনায় ফ্লোরেসের রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার গুরুত্ব আবার আলোচনায় এসেছে। টিনাকুইলোর সাধারণ ফেরিওয়ালার মেয়ে থেকে কারাকাসের ক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসা সিলিয়া ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার আধুনিক রাজনৈতিক পরিসরে অন্যতম প্রভাবশালী। কঠোর রাজনৈতিক অবস্থান এবং হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তিনি ভেনেজুয়েলার শাসক পরিসরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর ভেনেজুয়েলার উত্তর-পশ্চিমের ছোট শহর টিনাকুইলোতে একটি সাধারণ পরিবারের সন্তান ছিলেন ফ্লোরেস। তিনি পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান ছিলেন। বেড়ে ওঠেন মাটির ঘরে। তার পিতা ছিলেন ফেরিওয়ালা। ভালো সুযোগের খোঁজে পরে তার পরিবার কারাকাসে চলে আসে। সেখানে তিনি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ফৌজদারি আইন অধ্যয়ন করেন। তার কর্মজীবন শুরু হয় পুলিশ স্টেশনে খণ্ডকালীন কাজের মাধ্যমে। পরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আইনজীবী হিসেবে দশ বছর কাজ করেন। শ্যাভেজের আইনজীবী হিসেবে খ্যাতি অর্জনের পর তিনি তাকে উপদেষ্টা হিসেবে সহায়তা করতে শুরু করেন।

ফ্লোরেসের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৯ সালে কারাকাসে ‘কারাকাজো’ দাঙ্গার সময়। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল স্টেট টেলিভিশনে তিনি পরে বলেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে একটি বিপ্লবী আহ্বান জাগিয়ে তোলে। ওই সময়ে তিনি নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে পরিচিত হন।মাদুরো তখন ছিলেন শ্যাভেজের উপদেষ্টা। শ্যাভেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন।

ফ্লোরেস ২০০০ সালে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে সংসদের নেতা হন এবং ২০১২ সালে অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব নেন। ফার্স্ট লেডি হিসেবে তিনি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও মাদুরোর প্রশাসনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেছেন। কেউ কেউ তাকে ‘লেডি ম্যাকবেথ’ নামে ডাকেন, আবার তিনি নিজে নিজেকে ‘প্রথম বিপ্লবী যোদ্ধা’ বলে অভিহিত করেছেন।