ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফিরলেন, তখন তার কণ্ঠে ছিল শান্তির বাণী। নিজেকে ‘শান্তির প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত বছরের ২০ জানুয়ারি অভিষেক ভাষণে বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন, ‘শান্তি স্থাপনকারী এবং ঐক্যবদ্ধকারী হিসেবে নিজেকে ইতিহাসের পাতায় রেখে যাওয়াই হবে আমার সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।’
কিন্তু এক বছর পার না হতেই দেখা যাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। সেই শান্তিকামী ট্রাম্প এখন একের পর এক ফ্রন্টে যুদ্ধ আর সামরিক অভিযানের নেশায় মত্ত। বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় অতর্কিত হামলা আর বামপন্থি নেতা নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে উড়িয়ে আনার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তার দেওয়া প্রতিশ্রুতির ঠিক উল্টো। বড়দিনের সকালে নাইজেরিয়ায় জেহাদিদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে উৎসবের আবহ বদলে দিয়েছিলেন তিনি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় কমান্ডো অভিযান। এখানেই থেমে নেই তিনি; ইরানের রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে মার্কিন বাহিনী ‘লকড অ্যান্ড লোডেড’ বা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।
অথচ এই ট্রাম্পই বারবার দাবি করেছেন, আটটি যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটানোর জন্য তার নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া উচিত। ক্ষমতায় এসেই তিনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নাম বদলে রেখেছেন ‘ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ বা যুদ্ধ দফতর। ট্রাম্পের সাফ কথা, ‘শক্তির মাধ্যমেই শান্তি আসে।’ সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান যে নীতি নিয়েছিলেন সোভিয়েত ইউনিয়নকে রুখতে, ট্রাম্প যেন সেই পুরোনো অস্ত্রেই এখন নতুন করে শাণ দিচ্ছেন।
এক সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প ছিলেন মার্কিন হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচক। জর্জ ডব্লিউ বুশের ইরাক আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেছিলেন, তথাকথিত জাতি–নির্মাতারা দেশ গড়ার চেয়ে ধ্বংসই বেশি করেছে। রিয়াদের ভাষণেও তার মুখে শোনা গিয়েছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আগে নিজের দেশের স্বার্থ রক্ষার কথা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স
কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। গত বছরই তিনি ইসরায়েলের সমর্থনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিরিয়াতেও চালিয়েছেন বিমান হামলা। ভেনেজুয়েলা অভিযান নিয়ে তো খোদ মার্কিন সিনেটররাই সমালোচনা সরব। ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিনেটর রুবেন গ্যালেগো আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘এক বছরের কম সময়ে আমরা বিশ্বের প্রহরীর বদলে বিশ্বের গুণ্ডায় পরিণত হয়েছি।’
শান্তি পুরস্কারের প্রতি ট্রাম্পের আজন্ম তৃষ্ণা থাকলেও ভাগ্য যেন বারবার পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। এবার তার কাঙ্ক্ষিত নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো। মজার ব্যাপার হলো, ট্রাম্পের এই অভিযান যেন সেই পুরস্কারের মঞ্চকেই আরও নাটকীয় করে তুলেছে।
তবে নোবেল না মিললেও গত মাসে একটি অদ্ভুত ‘শান্তি পুরস্কার’ ঠিকই জুটেছে ট্রাম্পের কপালে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তার হাতে তুলে দিয়েছেন একটি বিশেষ সম্মাননা। যেখানে অভিবাসীদের প্রতি রূঢ় আচরণ কিংবা রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর খড়গহস্ত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে, সেখানে ইনফান্তিনোর বিচারে ট্রাম্প হলেন ‘বিশ্ব শান্তি ও ঐক্য রক্ষায় এক অসাধারণ নায়ক’।
সূত্র: এএফপি
রিপোর্টারের নাম 






















