ঢাকা ১০:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা: কারাকাসে বিস্ফোরণ, জরুরি অবস্থা জারি

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের হুমকির পর এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কারাকাস ছাড়াও মিরান্দা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। হামলার পরপরই দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ২টা (জিএমটি ০৬০০) থেকে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে কারাকাসজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণ ও আকাশে আগুনের ঝলকানি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই স্থল অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বছরের নির্বাচনে মাদুরো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছেন বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মাদুরোকে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং গত সোমবারও তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াটাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’।

হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে। তবে তারা সম্পদ দখলে ‘সফল হবে না’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ‘অবরোধ’ আরোপের পাশাপাশি মাদুরো সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মাদকপাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার একটি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে যেখানে নৌকায় মাদক তোলা হচ্ছিল। এটিই ছিল ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জ্ঞাত স্থল অভিযান। যদিও এই হামলাগুলো সিআইএ চালিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থাটির হাত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

মাদুরো সরকার মাদকপাচারের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, সাগরে মার্কিন হামলার ঘটনায় অনেক দেশই একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ডের সামনে অভিজ্ঞ বাংলাদেশ: সিরিজ জয়ে আত্মবিশ্বাসী টাইগাররা

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা: কারাকাসে বিস্ফোরণ, জরুরি অবস্থা জারি

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কয়েক মাসের হুমকির পর এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই খবর নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

কারাকাস ছাড়াও মিরান্দা, আরাগুয়া এবং লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। হামলার পরপরই দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত ২টা (জিএমটি ০৬০০) থেকে প্রায় ৯০ মিনিট ধরে কারাকাসজুড়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আকাশে যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির কাছে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণ ও আকাশে আগুনের ঝলকানি দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

২০১৩ সাল থেকে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতায় থাকা নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই স্থল অভিযানের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। গত বছরের নির্বাচনে মাদুরো কারচুপির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে আছেন বলে দাবি করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলগুলো। ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে মাদুরোকে দেশ ছেড়ে পালানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন এবং গত সোমবারও তিনি মন্তব্য করেছিলেন যে, মাদুরোর জন্য ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়াটাই হবে ‘বুদ্ধিমানের কাজ’।

হামলার বিষয়ে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ভেনেজুয়েলা সরকারের এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশটির তেল ও খনিজ সম্পদ দখল করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালিয়েছে। তবে তারা সম্পদ দখলে ‘সফল হবে না’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

গত কয়েক মাস ধরেই ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিমানবাহী রণতরি, যুদ্ধজাহাজ এবং উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর ‘অবরোধ’ আরোপের পাশাপাশি মাদুরো সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে মাদকপাচারের অভিযোগে এ পর্যন্ত দুই ডজনেরও বেশি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার একটি এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে যেখানে নৌকায় মাদক তোলা হচ্ছিল। এটিই ছিল ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম জ্ঞাত স্থল অভিযান। যদিও এই হামলাগুলো সিআইএ চালিয়েছে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কিছু বলেননি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থাটির হাত রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে।

মাদুরো সরকার মাদকপাচারের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। অন্যদিকে, সাগরে মার্কিন হামলার ঘটনায় অনেক দেশই একে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।