ঢাকা ০৭:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

নাগরিকত্ব স্ক্যান: উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাণ্ডে ভারতজুড়ে তোলপাড়

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে পুলিশের এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কৌসাম্বি এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান চালানোর সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল সদৃশ একটি যন্ত্র দিয়ে এক ব্যক্তির পিঠ স্ক্যান করছেন। বারকোড স্ক্যান করার মতো করে ওই কর্মকর্তা দাবি করছেন, যন্ত্রটি বলছে ওই ব্যক্তি একজন ‘বাংলাদেশি’। সাধারণত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট বা আধার কার্ডের মতো আইনি নথি ব্যবহৃত হলেও, পুলিশের এমন ‘রহস্যময় যন্ত্র’ ব্যবহারের ঘটনাটি গত ২৩ ডিসেম্বরের।

ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা এক নারী ও পুরুষকে সতর্ক করে বলছেন যে, তাদের কাছে মিথ্যা ধরার যন্ত্র রয়েছে। এরপর একজনের পিঠে যন্ত্রটি ঠেকিয়ে তিনি দাবি করেন, “যন্ত্র বলছে আপনি বাংলাদেশি।” তবে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলে যে, তারা বাংলাদেশি নন, বরং বিহারের আরারিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশ কর্মকর্তা তখন পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, যন্ত্র কিন্তু বিহার নয়, বাংলাদেশ দেখাচ্ছে। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কৌসাম্বি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের আগে রুটিন নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। স্থানীয় ডিসিপি নিমিশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের দায়িত্ব ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপিকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা দাবি করেছেন, অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভয় পেয়ে সত্য কথা বলে, সেজন্য তিনি কৌশল হিসেবে এই ‘স্ক্যান’ করার নাটক করেছিলেন।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক এই ঘটনাকে হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কর্মকর্তারা তাঁর ২২ বছর বয়সী মেয়ের সাথেও একই আচরণ করেন এবং তাঁদের বাংলাদেশি বলে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাদিক জানান, তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন এবং মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি বিহারের নাগরিক হওয়ার প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণপত্র পুলিশকে দেখিয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশের অপেশাদার আচরণ নিয়ে ভারতের মানবাধিকার মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্রেডিট কার্ড গ্রাহকদের বিমা সুবিধা দিতে ন্যাশনাল ব্যাংক ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চুক্তি

নাগরিকত্ব স্ক্যান: উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাণ্ডে ভারতজুড়ে তোলপাড়

আপডেট সময় : ০১:০৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে পুলিশের এক অদ্ভুত ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কৌসাম্বি এলাকার একটি বস্তিতে অভিযান চালানোর সময় এক পুলিশ কর্মকর্তা মোবাইল সদৃশ একটি যন্ত্র দিয়ে এক ব্যক্তির পিঠ স্ক্যান করছেন। বারকোড স্ক্যান করার মতো করে ওই কর্মকর্তা দাবি করছেন, যন্ত্রটি বলছে ওই ব্যক্তি একজন ‘বাংলাদেশি’। সাধারণত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য পাসপোর্ট বা আধার কার্ডের মতো আইনি নথি ব্যবহৃত হলেও, পুলিশের এমন ‘রহস্যময় যন্ত্র’ ব্যবহারের ঘটনাটি গত ২৩ ডিসেম্বরের।

ভিডিওতে দেখা যায়, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা এক নারী ও পুরুষকে সতর্ক করে বলছেন যে, তাদের কাছে মিথ্যা ধরার যন্ত্র রয়েছে। এরপর একজনের পিঠে যন্ত্রটি ঠেকিয়ে তিনি দাবি করেন, “যন্ত্র বলছে আপনি বাংলাদেশি।” তবে ভুক্তভোগী পরিবারটি তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলে যে, তারা বাংলাদেশি নন, বরং বিহারের আরারিয়ার স্থায়ী বাসিন্দা। পুলিশ কর্মকর্তা তখন পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, যন্ত্র কিন্তু বিহার নয়, বাংলাদেশ দেখাচ্ছে। এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

কৌসাম্বি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের আগে রুটিন নিরাপত্তার অংশ হিসেবে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। স্থানীয় ডিসিপি নিমিশ প্যাটেল জানিয়েছেন, ভিডিওটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের দায়িত্ব ইন্দিরাপুরম সার্কেলের এসিপিকে দেওয়া হয়েছে। এদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা অজয় শর্মা দাবি করেছেন, অনুপ্রবেশকারীরা যাতে ভয় পেয়ে সত্য কথা বলে, সেজন্য তিনি কৌশল হিসেবে এই ‘স্ক্যান’ করার নাটক করেছিলেন।

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী ৭৬ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক এই ঘটনাকে হয়রানি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, কর্মকর্তারা তাঁর ২২ বছর বয়সী মেয়ের সাথেও একই আচরণ করেন এবং তাঁদের বাংলাদেশি বলে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেন। সাদিক জানান, তিনি ১৯৮৭ সাল থেকে গাজিয়াবাদে বসবাস করছেন এবং মাছের ব্যবসার সাথে জড়িত। তিনি বিহারের নাগরিক হওয়ার প্রয়োজনীয় সকল প্রমাণপত্র পুলিশকে দেখিয়েছেন। এই ঘটনায় পুলিশের অপেশাদার আচরণ নিয়ে ভারতের মানবাধিকার মহলেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।