গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে এক ফিলিস্তিনি শিশু নিহত এবং আরও চার জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) এ ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের নতুন ঘটনা ঘটলো। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
সূত্রের বরাতে তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, উত্তর গাজার জাবালিয়া আল–নাজলা শহরের দিকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি চালালে ১১ বছর বয়সী এক কিশোরী প্রাণ হারিয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরের নেমসাওয়ি কবরস্থানের কাছে ইসরায়েলিদের গুলিতে আরও চার জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে এক শিশু ও এক নারী ছিলেন। তাদের চিকিৎসার জন্য নাসের মেডিক্যাল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের দুই বছরব্যাপী গণহত্যা থামাতে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছিল, ইসরায়েল তা বারবার লঙ্ঘন করেছে। এই সময়ে ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি মানুষ। এই নিহতদের মাঝে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ হাজার ১১০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড
পৃথক একটি ঘটনায়, গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য স্থাপিত একটি তাঁবুতে আগুন লাগার ফলে এক ফিলিস্তিনি মা ও তার সন্তান নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন আহত হয়েছেন বলে সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, মধ্য গাজা সিটির আল–দারাজ এলাকার আল–ইয়ারমুক আশ্রয়কেন্দ্রে আগুন লাগার পর তাদের উদ্ধারকারী দল দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং এক আহত ব্যক্তিকে সরিয়ে নিয়েছে।
আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ইসরায়েলের দুই বছরব্যাপী যুদ্ধের ফলে বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকা ধ্বংস হওয়ায় এবং ব্যাপক জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে গাজাজুড়ে কয়েক লক্ষ ফিলিস্তিনি তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন, যেখানে নিরাপদ বাসস্থানের তীব্র সংকট রয়েছে।
বেশিরভাগ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ন্যূনতম নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই এবং এগুলো অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে বাসিন্দারা প্রাচীন পদ্ধতিতে রান্না ও গরমের ব্যবস্থা করছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























