সম্প্রতি মিয়ানমারের নতুন ‘প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির নীতি নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ৩০ মে ভারতে পৌঁছানো মিন অং হ্লাইং, যিনি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল, নির্বাচিত নেতাদের কারারুদ্ধ এবং দেশব্যাপী বিদ্রোহ দমনে ভূমিকা রেখেছেন, তাকে নয়াদিল্লিতে একজন সম্মানিত প্রেসিডেন্ট হিসেবেই গ্রহণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে রক্তপাত ও আন্তর্জাতিক প্রত্যাখ্যানের মুখে থাকা একজন শাসকের জন্য ভারতের এই সফর তাকে বৈধতা অর্জনে সহায়তা করেছে বলে অনেকে মনে করছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য এই সফরটি ছিল কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১ হাজার ৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর ও মিজোরামের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীলতার একটি উৎস। একই সঙ্গে এটি একটি কৌশলগত অঞ্চল যেখানে চীন তার প্রভাব বিস্তার ও অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করে চলেছে।
সমস্যাটি কেবল মিয়ানমারের সঙ্গে ভারতের সম্পৃক্ত হওয়া নয়, বরং ভারতের বর্তমান সরকার এমন একজন নেতার উপর অতিরিক্ত গুরুত্ব আরোপ করেছে, যিনি নয়াদিল্লিতে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তা কার্যকর করার মতো ভূখণ্ড দিল্লিকে এনে দিতে পারবেন না। মিন অং হ্লাইংয়ের এই সফর দ্বিপক্ষীয় কূটনীতির পরিচিত চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে বন্ধুত্ব, ভূখণ্ডের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং কালাদান মাল্টি-মোডাল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্রকল্প ও ত্রিমুখী মহাসড়কের মাধ্যমে সংযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজে-কলমে এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত মনে হলেও, বাস্তবে এর বেশিরভাগই বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যায়, যা সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে নেই।
মিয়ানমারে ভারতের কালাদান প্রকল্পের উদাহরণটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা শহরকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের সিত্তওয়ে বন্দরের সঙ্গে সংযুক্ত করা, কালাদান নদীপথে চীন রাজ্যের পালেটওয়া পর্যন্ত পণ্য পরিবহন এবং উত্তর-পূর্ব রাজ্য মিজোরামের সঙ্গে সড়কপথে সংযোগ স্থাপন। দিল্লির এই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরিকল্পিত পথটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে নানা জটিলতা।
রিপোর্টারের নাম 





















