ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো জানিয়েছেন, তিনি মাদক পাচার ও তেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করতে আগ্রহী। তার সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই বৃহস্পতিবার তিনি এই আলোচনার প্রস্তাব দেন। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বৃহস্পতিবার মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে বসতে তিনি প্রস্তুত এবং তা হতে পারে যেকোনও স্থানে ও যেকোনও সময়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার একটি জাহাজ নোঙরের স্থানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, সিআইএ এই ড্রোন হামলা চালিয়েছে। নিশ্চিত হলে এটিই হবে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে প্রথম কোনও মার্কিন অভিযান।
সাক্ষাৎকারে এই হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাদুরো সরাসরি কোনও উত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কথা বলতে পারি।
গত তিন মাস ধরে ক্যারিবিয়ান ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মাদক চোরাচালান সন্দেহে বিভিন্ন নৌযানে হামলা চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে’র অংশ হিসেবে এ পর্যন্ত ৩০টিরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। গত ২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক জলসীমায় প্রথম হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত ১১০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ গত বুধবার মাদক বহনের অভিযোগে দুটি নৌকায় হামলায় পাঁচজন নিহত হন।
মাদক পাচারের পাশাপাশি তেল ও অভিবাসন ইস্যু নিয়েও আলোচনার কথা বলেছেন মাদুরো। ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে মাদুরো তার দেশের কারাগার ও পাগলাগারদ খালি করে কয়েদিদের যুক্তরাষ্ট্রে চলে যেতে বাধ্য করছেন। যদিও এই দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ হাজির করা হয়নি। ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ লাখ মানুষ ভেনেজুয়েলা ছেড়েছেন।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত ১০ ডিসেম্বর ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহনের অভিযোগে একটি ট্যাঙ্কার জব্দ করে মার্কিন বাহিনী। ভেনেজুয়েলা একে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে গ্রেফতারের জন্য পুরস্কারের অঙ্ক দ্বিগুণ করেছে এবং তার সরকারকে ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও) হিসেবে চিহ্নিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে মাদুরো নিজেকে মাদক চক্রের নেতা হিসেবে মানতে নারাজ। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুদ দখল করতে এবং তাকে ক্ষমতাচ্যুত করতেই যুক্তরাষ্ট্র এই ‘মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিক মাদক চোরাচালানে ভেনেজুয়েলা মূলত একটি ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়া বিশ্বের বৃহত্তম কোকেন উৎপাদনকারী হলেও ভেনেজুয়েলার রুটটি যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন ঢোকার প্রধান পথ নয়।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড দাবি করেছে যে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই তারা মাদকবাহী নৌযানগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব নৌযান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে সেগুলোতে মাদক থাকার কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র, যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধের নীতি লঙ্ঘন করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 
























