শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খোকন চন্দ্র দাস (৫০) নামে এক হিন্দু পল্লী চিকিৎসক ও ওষুধ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে এবং পেট্রোল ঢেলে গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে একদল দুর্বৃত্ত। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ বুধবার রাতে ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কের কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী খোকন দাস কেউরভাঙ্গা বাজারে নিজের ওষুধের দোকান বন্ধ করে ইজিবাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা গাড়ি থামিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং তলপেটে ছুরিকাঘাত করে। এক পর্যায়ে তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে খোকন দাস পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং স্থানীয়দের চিৎকার শুনে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) স্থানান্তর করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখমসহ মাথা ও পিঠের অনেকটা অংশ দগ্ধ হয়েছে। খোকন দাসের স্ত্রী সীমা দাস জানান, তাঁর স্বামী অন্তত দুইজন হামলাকারীকে চিনতে পেরেছেন বলেই তারা তাঁকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় রাব্বি ও সোহাগ নামে স্থানীয় দুই যুবককে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদেরসহ অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
২০২৫ সালের শেষার্ধ থেকে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে মব জাস্টিস বা গণপিটুনিতে অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস এবং রাজবাড়ীতে অমৃত মন্ডল নামে দুই হিন্দু যুবককে হত্যার ঘটনার পর এই নতুন হামলাটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টারের নাম 

























