বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে নবগঠিত ১০-দলীয় রাজনৈতিক জোটে যোগদানের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দলটির অন্তত নয়জন কেন্দ্রীয় নেতা দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। পদত্যাগকারী নেতাদের অভিযোগ, এনসিপি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আদর্শ ও ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত’ গড়ার অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত হয়ে প্রচলিত ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও আপসকামী রাজনীতির পথে হাঁটছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অস্বচ্ছতা ও দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাবকেও তাঁরা পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপিসহ ১০-দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর থেকেই এই অস্থিরতা প্রকাশ্য রূপ নেয়। এর আগে দলটির প্রায় ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা লিখিতভাবে জোটের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। তবে সেই আপত্তি উপেক্ষা করায় গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে পদত্যাগের হিড়িক শুরু হয়। পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হক, ঢাকা-১৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবীন, পলিসি উইংয়ের প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ এবং তাঁর স্ত্রী ডা. তাসনীম জারা। সর্বশেষ ১ জানুয়ারি পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন এবং মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন। এছাড়া আরিফ সোহেল এবং কেন্দ্রীয় সংগঠক আজাদ খান ভাসানীও দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।
পদত্যাগকারী নেতারা তাঁদের বিবৃতিতে জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও মধ্যপন্থী-স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনাকে এই জোট রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিশেষ করে জামায়াতের মতো পুরোনো ধারার শক্তির সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং আদর্শিক আপসকে তাঁরা ‘নয়া বন্দোবস্তের’ পরিপন্থী হিসেবে দেখছেন। তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, নির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই বৃহত্তর ঐক্যের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, দলের একটি বড় অংশ ও সহযোগী সংগঠনগুলো এই জোটে আস্থাশীল এবং পদত্যাগকারী নেতাদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করা হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























