ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় আরও রয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, তরুণ দে, সাইফুল আলম নিরব, মামুনুর রশিদ এবং কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যেসব আসনে মিত্র দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বাইরে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাঁদের ওপর কেন্দ্র থেকে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রেখেছে দলটি। অনেক জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের কেন্দ্রে তলব করে দল ক্ষমতায় গেলে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হতে পারে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত যাঁরা এই নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের বহিষ্কারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া অনেক নেতা দাবি করেছেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপে এবং যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় তাঁরা প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাঁদের বড় একটি অংশ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেক নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন, তবে তার আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থানের কথা জানাতে চান। বিএনপি হাইকমান্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেবল প্রার্থী নন, বরং যাঁরা পদের থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

আবারও সরকারি ছুটি ফিরছে ৭ নভেম্বর: পালিত হবে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে বিএনপি

আপডেট সময় : ১০:২২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া নেতাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৯ জন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের তালিকায় আরও রয়েছেন মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, তরুণ দে, সাইফুল আলম নিরব, মামুনুর রশিদ এবং কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশ। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যেসব আসনে মিত্র দলগুলোকে ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দলীয় প্রার্থীর বাইরে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে শতাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যাঁদের ওপর কেন্দ্র থেকে কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে কঠোর ব্যবস্থার পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা রেখেছে দলটি। অনেক জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাঁদের কেন্দ্রে তলব করে দল ক্ষমতায় গেলে যথাযথ মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হতে পারে। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় পর্যন্ত যাঁরা এই নির্দেশ অমান্য করবেন, তাঁদের বহিষ্কারের তালিকা আরও দীর্ঘ হবে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়ন জমা দেওয়া অনেক নেতা দাবি করেছেন, স্থানীয় নেতাকর্মীদের চাপে এবং যোগ্যতার সঠিক মূল্যায়ন না হওয়ায় তাঁরা প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাঁদের বড় একটি অংশ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেক নেতা জানিয়েছেন, তাঁরা শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা মেনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন, তবে তার আগে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে নিজেদের অবস্থানের কথা জানাতে চান। বিএনপি হাইকমান্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কেবল প্রার্থী নন, বরং যাঁরা পদের থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও সমান কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।