ঢাকা ০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বেশি বাদ পড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মূলত নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরে গরমিল, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা এবং হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করার কারণে সারা দেশে অসংখ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা।

তবে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়ে রিটার্নিং অফিসাররা হলফনামার ছোটখাটো ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রার্থীদের সময় দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-১২ ও গাজীপুর-২ আসনে।

যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যশোরে ক্রেডিট কার্ড জটিলতায় জামায়াত প্রার্থীর এবং দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বিএনপি প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়েছে। রংপুরে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্যে অসম্পূর্ণতা থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামে মামলার তথ্য গোপনের দায়ে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখাতে না পারায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। নাটোরে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রার্থিতা মামলার কারণে প্রথমে অপেক্ষমাণ রাখা হলেও পরবর্তীতে নথিপত্র পাওয়ায় তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসাররা আগামী রবিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন, যা ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫১টি অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ৩৩১টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শীর্ষে রয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান যুক্তরাজ্যের, আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বেশি বাদ পড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। মূলত নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরে গরমিল, ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতা এবং হলফনামায় মামলার তথ্য গোপন করার কারণে সারা দেশে অসংখ্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং অফিসাররা।

তবে কিছু ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়ে রিটার্নিং অফিসাররা হলফনামার ছোটখাটো ত্রুটি সংশোধনের জন্য প্রার্থীদের সময় দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮ জন করে প্রার্থী রয়েছেন ঢাকা-১২ ও গাজীপুর-২ আসনে।

যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম পর্যায়ে বিভিন্ন জেলায় হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভাগ্যেও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যশোরে ক্রেডিট কার্ড জটিলতায় জামায়াত প্রার্থীর এবং দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করায় বিএনপি প্রার্থীর আবেদন বাতিল হয়েছে। রংপুরে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্যে অসম্পূর্ণতা থাকায় জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, কুড়িগ্রামে মামলার তথ্য গোপনের দায়ে জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য পনির উদ্দিন আহমেদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুরসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থন দেখাতে না পারায় দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন বাতিল করা হয়েছে। নাটোরে বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর প্রার্থিতা মামলার কারণে প্রথমে অপেক্ষমাণ রাখা হলেও পরবর্তীতে নথিপত্র পাওয়ায় তা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং অফিসাররা আগামী রবিবার (৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে, তাঁরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করার সুযোগ পাবেন, যা ১৮ জানুয়ারির মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫৯টি দলের মধ্যে ৫১টি অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে বিএনপি সর্বোচ্চ ৩৩১টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে শীর্ষে রয়েছে।