ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভোটের আগে ও পরে ৮ দিনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তাব: ইসি সচিব

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট আট দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখার একটি প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সভায় এসেছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা ভোটের মাঠে পাঁচ দিনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করি। তবে এবার মোট আট দিন—নির্বাচনের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী চার দিন—নিরাপত্তা বাহিনী রাখার প্রস্তাব এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’ ইসি সচিব আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষ ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না, তবে প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে।

এছাড়া, ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও গুজব কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। এর বাইরে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য এবং ৫ থেকে ৬ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

ইসি সচিব আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য মাঠে কাজ করবে। তবে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার’ (আরপিও) সংশোধনের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইজিপি জানিয়েছেন, এক লাখ পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচনের মাঠে কাজ করবেন। সবচাইতে বড় বাহিনীটি আসবে আনসার-ভিডিপি থেকে। স্বরাষ্ট্র সচিব (হোম সেক্রেটারি) বলেছেন যে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে আমাদের ভিজিলেন্স বা নজরদারি এবার অনেক জোরালো হবে।’

আখতার আহমেদ জানান, আজকের বৈঠকে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্রের সংখ্যাগত হিসাব ও নির্বাচনী এলাকার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

ভোটের আগে ও পরে ৮ দিনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর প্রস্তাব: ইসি সচিব

আপডেট সময় : ১০:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবার ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট আট দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখার একটি প্রস্তাব নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সভায় এসেছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রস্তুতি বৈঠক হয়। সেই বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমরা ভোটের মাঠে পাঁচ দিনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মোতায়েন করি। তবে এবার মোট আট দিন—নির্বাচনের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোট পরবর্তী চার দিন—নিরাপত্তা বাহিনী রাখার প্রস্তাব এসেছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’ ইসি সচিব আরও জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় সাধারণ মানুষ ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে না, তবে প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে।

এছাড়া, ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের জন্য ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সাইবার মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো অপপ্রচার ও গুজব কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। এর বাইরে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য এবং ৫ থেকে ৬ লাখ আনসার-ভিডিপি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন।

ইসি সচিব আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য মাঠে কাজ করবে। তবে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অর্ডার’ (আরপিও) সংশোধনের পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।

এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইজিপি জানিয়েছেন, এক লাখ পুলিশ কর্মকর্তা নির্বাচনের মাঠে কাজ করবেন। সবচাইতে বড় বাহিনীটি আসবে আনসার-ভিডিপি থেকে। স্বরাষ্ট্র সচিব (হোম সেক্রেটারি) বলেছেন যে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ড্রোনের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে আমাদের ভিজিলেন্স বা নজরদারি এবার অনেক জোরালো হবে।’

আখতার আহমেদ জানান, আজকের বৈঠকে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, কেন্দ্রের সংখ্যাগত হিসাব ও নির্বাচনী এলাকার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, বৈধ অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।