ঢাকা ১১:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

লায়লাকে মারধর: প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

লায়লা আখতার ফরহাদকে বাসায় ঢুকে মারধরের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদীপক্ষের আবেদন নিয়ে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। এদিন মামুনের আইনজীবী তার জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত জামিন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

এদিন সকালে নতুন রূপে বোরকা পরে আদালতে আসেন লায়লা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতে ন্যায় বিচার পাচ্ছি। আমি যদি মারাও যাই এ মামলা চলবে। প্রিন্স মামুন হচ্ছে একজন কিশোর গ্যাং লিডার। সে আমাকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।’

এদিন মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওমরা হজ পালন করতে সৌদি আরব থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি প্রিন্স মামুন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আশিকুল ইসলাম সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে লায়লা আদালতে হাজির হন। তিনি প্রিন্স মামুনের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তারপক্ষে অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল) শুনানি করেন। 

অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে অন্য আদালতে ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন। মামলা তুলে নিতে বাসায় প্রবেশ করে বাদীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করছি।’

একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন এ আইনজীবী।

শুনানি নিয়ে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ৫ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল)।

মামলার বিবরণ থেকে, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় লায়লার। এরপর থেকে সে লায়লার বাসায় যাতায়াত করতো। চলতি বছরের ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লায়লার ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস বাসায় যায় সে। তার বিরুদ্ধে করা তিন মামলা ও একটি জিডি তুলে নিতে হুমকি দেয়। লায়লা মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে লাইভে গিয়ে সে তাকে, তার মাকে ও সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে লাইভ বন্ধ করে লায়লাকে মারধর করে। ছুরি দিয়ে হত্যা করতে গেলে লায়লা ছুরি ধরে ফেলে। এতে সে আহত হয়।

এ ঘটনায় লায়লা ওইদিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রিন্স মামুনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই আতিকুর রহমান সৈকত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্থির তেলের বাজার, দাম বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

লায়লাকে মারধর: প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

আপডেট সময় : ০৫:৫৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

লায়লা আখতার ফরহাদকে বাসায় ঢুকে মারধরের মামলায় আদালতে হাজির না হওয়ায় টিকটকার আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদীপক্ষের আবেদন নিয়ে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। এদিন মামুনের আইনজীবী তার জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত জামিন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

এদিন সকালে নতুন রূপে বোরকা পরে আদালতে আসেন লায়লা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি আদালতে ন্যায় বিচার পাচ্ছি। আমি যদি মারাও যাই এ মামলা চলবে। প্রিন্স মামুন হচ্ছে একজন কিশোর গ্যাং লিডার। সে আমাকে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে।’

এদিন মামলাটি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। ওমরা হজ পালন করতে সৌদি আরব থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি প্রিন্স মামুন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আশিকুল ইসলাম সময় চেয়ে আবেদন করেন। তবে লায়লা আদালতে হাজির হন। তিনি প্রিন্স মামুনের জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন। তারপক্ষে অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল) শুনানি করেন। 

অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আসামির বিরুদ্ধে অন্য আদালতে ধর্ষণ মামলা বিচারাধীন। মামলা তুলে নিতে বাসায় প্রবেশ করে বাদীকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। এমতাবস্থায় আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করছি।’

একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা করেন এ আইনজীবী।

শুনানি নিয়ে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। একইসঙ্গে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ৫ মার্চ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট সরকার সাব্বির হোসেন (ফয়সাল)।

মামলার বিবরণ থেকে, প্রিন্স মামুনের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় লায়লার। এরপর থেকে সে লায়লার বাসায় যাতায়াত করতো। চলতি বছরের ১০ মে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে লায়লার ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস বাসায় যায় সে। তার বিরুদ্ধে করা তিন মামলা ও একটি জিডি তুলে নিতে হুমকি দেয়। লায়লা মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানালে লাইভে গিয়ে সে তাকে, তার মাকে ও সন্তানদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে লাইভ বন্ধ করে লায়লাকে মারধর করে। ছুরি দিয়ে হত্যা করতে গেলে লায়লা ছুরি ধরে ফেলে। এতে সে আহত হয়।

এ ঘটনায় লায়লা ওইদিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রিন্স মামুনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার এসআই আতিকুর রহমান সৈকত।