প্রবাসী আয়ের শক্তিশালী প্রবাহ এবং ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৯ দিনেই দেশে ৩ বিলিয়ন (৩০৪ কোটি) ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট রিজার্ভ বর্তমানে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলার বা ৩৩.১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এটি গত তিন বছরের মধ্যে রিজার্ভের সর্বোচ্চ অবস্থান। এর আগে ২০২১ সালে রিজার্ভ রেকর্ড ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, তবে বিগত সরকারের পতনের সময় তা ২৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা গত বছরের আগস্ট থেকেই শুরু হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় অনেক বেশি। রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সুযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা শুরু করেছে। গত মঙ্গলবারও সাতটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে প্রায় ৯ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসেই প্রায় ৩১৩ কোটি ডলার কেনা হয়েছে, যার মধ্যে কেবল ডিসেম্বর মাসেই কেনা হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী বর্তমানে রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, ডিসেম্বর শেষে মোট রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন যে, বিদেশি ঋণ নয় বরং নিজস্ব বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ শক্তিশালী করাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। দেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করায় এবং আমদানির চাপ সামলানোর সক্ষমতা বাড়ায় এই অর্জনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।
রিপোর্টারের নাম 

























