ঢাকা ০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যের বার্তা: বিশৃঙ্খলা করলে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তিনি আপাতত কাউকেই নিরাশ করেননি। বরং সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে দল গোছানো এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পৃথক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি সবাইকে এলাকায় ফিরে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে, মাঠে সক্রিয় থাকতে এবং ধানের শীষের পক্ষে জোর প্রচারণা চালাতে নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রচার বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কেউ যেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্তভাবে প্রার্থী করা হবে, এবং সবার দায়িত্ব হবে সেই মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাকে দলের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মোট ১২৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক ডাক না পাওয়া অনেকে ঢাকায় গেলেও মহাসচিব তাদের সঙ্গেও পরে আলাদাভাবে বৈঠক করেন।

বিএনপি মহাসচিব বৈঠকে জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর প্রার্থী যেই হোন না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে তাকে বিজয়ী করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রতিটি আসনের সাংগঠনিক অবস্থা, জনপ্রিয়তা, ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এবারের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপি তথ্যভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রতিটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে পাঁচটি যোগ্যতা ও পাঁচটি অযোগ্যতার মানদণ্ডে প্রার্থীর একটি স্বয়ংক্রিয় র‌্যাংকিং তৈরি হবে, যা মনোনয়ন কমিটির কাছে পাঠানো হবে। বিশেষ কারণ ছাড়া এই র‌্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং দলের প্রতি ত্যাগের মতো বিষয়গুলো যোগ্যতার মানদণ্ডে রাখা হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত করেন যে, প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তবে বিকল্প হিসেবে আরও দু’জনের নাম সংরক্ষণ করা হবে। মনোনীত প্রার্থীর কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প তালিকা থেকে দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, যারা এবার মনোনয়ন পাবেন না, তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মহাসচিব মূলত দলের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এখনো কাউকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীও বলেন, সিলেট বিভাগের নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের যেসব নেতারা এই বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী, ড. এনামুল হক চৌধুরী, তাহসীনা রুশদী লুনা, ব্যারিস্টার এম এ সালাম, মিফতাহ সিদ্দিকী, আবুল কাহের শামীম, আশিক উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, আনিসুল হক, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া, শাহ মোজাম্মেল হোসেন নান্টু, আলহাজ্ব জি কে গউছ, সৈয়দ মো. ফয়সল, মোছা. শাম্মী আক্তার, শরিফুল হক সাজু, অ্যাডভোকেট আবেদন রাজা, এম. নাসের রহমান এবং হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইলি হামলায় ইরানের বালিকা বিদ্যালয়ে ৪০ ছাত্রী নিহত: শোকের ছায়া

একক প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যের বার্তা: বিশৃঙ্খলা করলে সর্বোচ্চ শাস্তির হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৯:১২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে তিনি আপাতত কাউকেই নিরাশ করেননি। বরং সবাইকে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে দল গোছানো এবং ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।

গতকাল রোববার (১৯ অক্টোবর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পৃথক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি সবাইকে এলাকায় ফিরে বিএনপিকে শক্তিশালী করতে, মাঠে সক্রিয় থাকতে এবং ধানের শীষের পক্ষে জোর প্রচারণা চালাতে নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রচার বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে কেউ যেন অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্তভাবে প্রার্থী করা হবে, এবং সবার দায়িত্ব হবে সেই মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। কেউ শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে তাকে দলের সর্বোচ্চ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

গুলশান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মোট ১২৯ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক ডাক না পাওয়া অনেকে ঢাকায় গেলেও মহাসচিব তাদের সঙ্গেও পরে আলাদাভাবে বৈঠক করেন।

বিএনপি মহাসচিব বৈঠকে জানিয়েছেন, দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি আসনে ত্যাগী, যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর প্রার্থী যেই হোন না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমে তাকে বিজয়ী করতে হবে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রতিটি আসনের সাংগঠনিক অবস্থা, জনপ্রিয়তা, ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, এবারের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় বিএনপি তথ্যভিত্তিক যাচাই-বাছাইয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রতিটি প্রার্থীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি ডিজিটাল ডেটাবেজে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। সেখানে পাঁচটি যোগ্যতা ও পাঁচটি অযোগ্যতার মানদণ্ডে প্রার্থীর একটি স্বয়ংক্রিয় র‌্যাংকিং তৈরি হবে, যা মনোনয়ন কমিটির কাছে পাঠানো হবে। বিশেষ কারণ ছাড়া এই র‌্যাংকিংয়ের বাইরে গিয়ে মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা কম। প্রার্থীর অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা, সাংগঠনিক দক্ষতা, পারিবারিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য এবং দলের প্রতি ত্যাগের মতো বিষয়গুলো যোগ্যতার মানদণ্ডে রাখা হয়েছে।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা নিশ্চিত করেন যে, প্রতিটি আসনে একজনকেই চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তবে বিকল্প হিসেবে আরও দু’জনের নাম সংরক্ষণ করা হবে। মনোনীত প্রার্থীর কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিকল্প তালিকা থেকে দ্রুত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, যারা এবার মনোনয়ন পাবেন না, তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, মহাসচিব মূলত দলের জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং এখনো কাউকে চূড়ান্তভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীও বলেন, সিলেট বিভাগের নেতাদের মধ্যে ঐক্য ও মাঠ পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মনোনয়ন পাওয়ার পর প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট বিভাগের ১৯টি আসনের যেসব নেতারা এই বৈঠকে যোগ দিতে ঢাকায় গিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী, ড. এনামুল হক চৌধুরী, তাহসীনা রুশদী লুনা, ব্যারিস্টার এম এ সালাম, মিফতাহ সিদ্দিকী, আবুল কাহের শামীম, আশিক উদ্দিন চৌধুরী, আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, আনিসুল হক, নাছির উদ্দিন চৌধুরী, কয়ছর এম আহমদ, দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন, মিজানুর রহমান চৌধুরী, আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া, শাহ মোজাম্মেল হোসেন নান্টু, আলহাজ্ব জি কে গউছ, সৈয়দ মো. ফয়সল, মোছা. শাম্মী আক্তার, শরিফুল হক সাজু, অ্যাডভোকেট আবেদন রাজা, এম. নাসের রহমান এবং হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী।