বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) থেকে সারাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার উপদেষ্টা পরিষদের এক বিশেষ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শোক পালনের এই কর্মসূচি আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি ২০২৬) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে আজ বুধবার সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সকল সরকারি-বেসরকারি ভবন এবং বিদেশের মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে অভিহিত করে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। শোক পালনের অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর দেশের সকল মসজিদে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া একই দিনে অন্যান্য সকল ধর্মীয় উপাসনালয়েও তাঁর আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করার কথা জানানো হয়েছে। এই শোক চলাকালীন ঢাকা মহানগরীতে সকল ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি এবং আতশবাজি প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে ৮০ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সেখানে তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন। আজ বুধবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাঁকে সমাহিত করার মধ্য দিয়ে এই বিদায়ী অধ্যায় সম্পন্ন হবে।
রিপোর্টারের নাম 



















