ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

‘একটি ইতিহাসের জীবনাবসান’

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে তাকে মূল্যায়ন করে বক্তব্য দিয়েছেন। কারও মতে তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ অভিভাবক। কারও মতো তিনি ছিলেন আপষহীন নেত্রী। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী বেগম খালেদা জিয়া দেশের জীবন্ত ইতিহাস ছিলেন বলেও কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীতে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

সচিবালয়ে ৫ নম্বর গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তোফায়েল হোসেন বলেন, সরকারি চাকরি করি। কর্তব্যরত অবস্থায় খালেদা জিয়ার বিষয়ে মতামত দেওয়া কতটা সঠিক হবে জানি না। তারপরও বলবো, তিনি ছিলেন একজন রাষ্ট্রীয় অভিভাবক। রাষ্ট্রের এবং দলের বিভিন্ন সংকটময় অবস্থায় তিনি একজন সফল অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।

সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারি হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, ব্যক্তিজীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।

কারণ হিসেবে হেলাল উদ্দিন বলেন, বেগম জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময় তিনি ছিরেন একজন গৃহবধু, দুই ছেলের মা। ১৯৮১ সালে সেখান থেকে প্রথম একজন রাজনৈতিক কর্মী, পরবর্তী সময়ে নেত্রী হিসেবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।  ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্হিঃবিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সংরক্ষণের মতো কাজ করেও তিনি সফল রাষ্ট্রনায়কের পরিচয় দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি দেশের রাজনীতিতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ফলে বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপুর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এসব দিক বিবেচনা করে আমরা সহসাই বলতে পারি, এ মৃত্যু বেগম জিয়ার মৃত্যু নয়, এটি একটি ইতিহাসের জীবনাবসান।

প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রীয জনতা ব্যাংকের তোপখানা রোড করপোরেট শাখার এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একজন অপোষহীন নেত্রীর মৃত্যু হলো। দেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন নেত্রী। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন উত্থান-পতনের সময়ে তিনি নানা ধরনের সংকট কাটিয়ে আপোষহীনভাবে দলকে পরিচালনা করেছেন। এ কারণেই তাকে তার দলের নেতাকর্মীরা আপোষহীন নেত্রী হিসেবে মানেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান। গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। এই রাজনীতিকের চলে যাওয়ায় রাজনীতির ময়দান হারালো এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন আরাগচি: ইরানের ঝটিকা কূটনৈতিক তৎপরতা

‘একটি ইতিহাসের জীবনাবসান’

আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সাধারণ মানুষ বিভিন্নভাবে তাকে মূল্যায়ন করে বক্তব্য দিয়েছেন। কারও মতে তিনি ছিলেন একজন বলিষ্ঠ অভিভাবক। কারও মতো তিনি ছিলেন আপষহীন নেত্রী। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী বেগম খালেদা জিয়া দেশের জীবন্ত ইতিহাস ছিলেন বলেও কেউ কেউ অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীতে বসবাসকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এসব অভিমত ব্যক্ত করেন।

সচিবালয়ে ৫ নম্বর গেটে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তোফায়েল হোসেন বলেন, সরকারি চাকরি করি। কর্তব্যরত অবস্থায় খালেদা জিয়ার বিষয়ে মতামত দেওয়া কতটা সঠিক হবে জানি না। তারপরও বলবো, তিনি ছিলেন একজন রাষ্ট্রীয় অভিভাবক। রাষ্ট্রের এবং দলের বিভিন্ন সংকটময় অবস্থায় তিনি একজন সফল অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন।

সচিবালয়ের ২ নম্বর গেটে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারি হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে। তিনি জানান, ব্যক্তিজীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস।

কারণ হিসেবে হেলাল উদ্দিন বলেন, বেগম জিয়ার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর সময় তিনি ছিরেন একজন গৃহবধু, দুই ছেলের মা। ১৯৮১ সালে সেখান থেকে প্রথম একজন রাজনৈতিক কর্মী, পরবর্তী সময়ে নেত্রী হিসেবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।  ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্হিঃবিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সংরক্ষণের মতো কাজ করেও তিনি সফল রাষ্ট্রনায়কের পরিচয় দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি দেশের রাজনীতিতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ফলে বাংলাদেশের ৫৪ বছরের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের একটি গুরুত্বপুর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এসব দিক বিবেচনা করে আমরা সহসাই বলতে পারি, এ মৃত্যু বেগম জিয়ার মৃত্যু নয়, এটি একটি ইতিহাসের জীবনাবসান।

প্রায় একই অভিমত ব্যক্ত করেছেন রাষ্ট্রীয জনতা ব্যাংকের তোপখানা রোড করপোরেট শাখার এক কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একজন অপোষহীন নেত্রীর মৃত্যু হলো। দেশের রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন আপোষহীন নেত্রী। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন উত্থান-পতনের সময়ে তিনি নানা ধরনের সংকট কাটিয়ে আপোষহীনভাবে দলকে পরিচালনা করেছেন। এ কারণেই তাকে তার দলের নেতাকর্মীরা আপোষহীন নেত্রী হিসেবে মানেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজনীতিতে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসারত অবস্থায় দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনের এই প্রয়াণে দেশের রাজনীতিতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি নয়, বরং একটি যুগের অবসান। গণতন্ত্র, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে তিনি ছিলেন দৃঢ় ও আপসহীন এক নেত্রী। এই রাজনীতিকের চলে যাওয়ায় রাজনীতির ময়দান হারালো এক শক্তিশালী ও প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর।