ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজ বিরোধী মানববন্ধনে অতর্কিত হামলা; ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানববন্ধন করার সময় ব্যবসায়ীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার জেরে ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার পর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তারা পুলিশের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করার সময় চাঁদাবাজ আব্দুর রহমানের চক্রের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও নেমে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন।

আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীরা জানান, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রহমান গত ৫ আগস্টের পর থেকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা একত্রিত হলে তার অনুসারীরা হামলা চালায়।

এ সময় ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে কারওয়ান বাজারের সকল দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবেন।

ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হান্নান বলেন, আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলেন। এর আগেও তারা এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেছেন। আজকের মানববন্ধনের সময় আশপাশে পুলিশও মোতায়েন ছিল। হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে অতর্কিতভাবে তাদের ব্যানার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার রূপ নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

একেএস/এফএ

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ

কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজ বিরোধী মানববন্ধনে অতর্কিত হামলা; ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

আপডেট সময় : ০৩:১৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মানববন্ধন করার সময় ব্যবসায়ীদের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার জেরে ব্যবসায়ীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টার পর কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনে এই উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, তারা পুলিশের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করার সময় চাঁদাবাজ আব্দুর রহমানের চক্রের সদস্যরা লাঠিসোটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে মার্কেটের অন্যান্য ব্যবসায়ীরাও নেমে এসে হামলাকারীদের ধাওয়া করেন।

আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীরা জানান, যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা আব্দুর রহমান গত ৫ আগস্টের পর থেকে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে আসছে। এই চাঁদাবাজির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা একত্রিত হলে তার অনুসারীরা হামলা চালায়।

এ সময় ব্যবসায়ীরা অবিলম্বে অভিযুক্ত আব্দুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি আব্দুর রহমানকে গ্রেফতার করা না হয়, তাহলে কারওয়ান বাজারের সকল দোকান বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হবেন।

ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আব্দুল হান্নান বলেন, আব্দুর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলেন। এর আগেও তারা এ ধরনের কর্মসূচি পালন করেছেন। আজকের মানববন্ধনের সময় আশপাশে পুলিশও মোতায়েন ছিল। হঠাৎ কয়েকজন লোক এসে অতর্কিতভাবে তাদের ব্যানার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার রূপ নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

একেএস/এফএ