ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

বিমান হামলায় কেঁপে উঠল উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

নাফ নদের অপর পারে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত শনিবার গভীর রাতে একাধিক দফায় বিমান থেকে ভারী গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রাতভর চলা এই হামলার তীব্র শব্দ ও কম্পনে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার বসতবাড়িতেও কাঁপুনি অনুভূত হয়। বিকট শব্দে সীমান্তজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সূত্রে জানা গেছে, রাখাইনের বন্দর শহর মংডুর উত্তরাঞ্চলের বলি বাজার এলাকায় বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মায়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালায়। তবে এ হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হামলা শুরু হয় এবং তা রাতভর চলতে থাকে। রাখাইনভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম মংডু ডেইলি নিউজ ও আরাকান আপডেট তাদের ফেসবুক পেজে উত্তর মংডু এলাকায় বিমান হামলার খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জান্তা বাহিনীর এসএসএ যুদ্ধবিমান উত্তর মংডুর কিয়াও চাউং ডিভিশন ও গান চাউং ব্যাটালিয়নে তিন দফা গোলাবর্ষণ করে। একই সময় একটি ওয়াই-১২ বিমানও আকাশে টহল দিতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মংডু টাউনশিপের উত্তর মংডু অঞ্চলটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তারা দাবি করে আসছে। রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন—শনিবার রাতের মতো এমন তীব্র ও একটানা বিস্ফোরণের শব্দ সাম্প্রতিক সময়ে আর শোনা যায়নি।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্তবাসীদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার প্রকাশ দেখা যায়। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, উখিয়ার পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ এই বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদের তীরবর্তী রাখাইনপাড়ার বাসিন্দা ভুষিঅং রাখাইন বলেন, ওপর্যুপরি গোলাবর্ষণের শব্দে সারা রাত ঘুমানো সম্ভব হয়নি। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হয়েছে নিজের বাড়ির আঙিনায় বোমা পড়ছে। সে সময় ঘরের দরজা-জানালাসহ সবকিছু কেঁপে ওঠে।

উখিয়ার পালংখালীর কাশেম সওদাগর ও রহমতের বিল গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, হঠাৎ বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড শব্দে প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। এমন বিকট গোলাবর্ষণের শব্দ তিনি সাম্প্রতিক সময়ে শোনেননি বলে জানান। একই ধরনের শব্দ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও আশ্রিত রোহিঙ্গারা শুনেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা জানান, উত্তর মংডু এলাকায় চালানো বিমান হামলার শব্দ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকেও স্পষ্টভাবে শোনা গেছে।

এ বিষয়ে বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বলেন, শনিবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১০টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে হোয়াইক্যং বিওপির নিকটবর্তী মায়ানমারের অভ্যন্তরে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি সীমান্তে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার কমিশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

বিমান হামলায় কেঁপে উঠল উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত, আতঙ্কে স্থানীয়রা

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫

নাফ নদের অপর পারে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত শনিবার গভীর রাতে একাধিক দফায় বিমান থেকে ভারী গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। রাতভর চলা এই হামলার তীব্র শব্দ ও কম্পনে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ এলাকার বসতবাড়িতেও কাঁপুনি অনুভূত হয়। বিকট শব্দে সীমান্তজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রাখাইনে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সূত্রে জানা গেছে, রাখাইনের বন্দর শহর মংডুর উত্তরাঞ্চলের বলি বাজার এলাকায় বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে মায়ানমারের জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালায়। তবে এ হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, শনিবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হামলা শুরু হয় এবং তা রাতভর চলতে থাকে। রাখাইনভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম মংডু ডেইলি নিউজ ও আরাকান আপডেট তাদের ফেসবুক পেজে উত্তর মংডু এলাকায় বিমান হামলার খবর প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত জান্তা বাহিনীর এসএসএ যুদ্ধবিমান উত্তর মংডুর কিয়াও চাউং ডিভিশন ও গান চাউং ব্যাটালিয়নে তিন দফা গোলাবর্ষণ করে। একই সময় একটি ওয়াই-১২ বিমানও আকাশে টহল দিতে দেখা যায়।

বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন মংডু টাউনশিপের উত্তর মংডু অঞ্চলটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তারা দাবি করে আসছে। রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেলেও, স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন—শনিবার রাতের মতো এমন তীব্র ও একটানা বিস্ফোরণের শব্দ সাম্প্রতিক সময়ে আর শোনা যায়নি।

হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সীমান্তবাসীদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার প্রকাশ দেখা যায়। টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন, উখিয়ার পালংখালী ও রাজাপালং ইউনিয়ন এবং পার্শ্ববর্তী নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষ এই বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের নাফ নদের তীরবর্তী রাখাইনপাড়ার বাসিন্দা ভুষিঅং রাখাইন বলেন, ওপর্যুপরি গোলাবর্ষণের শব্দে সারা রাত ঘুমানো সম্ভব হয়নি। হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে মনে হয়েছে নিজের বাড়ির আঙিনায় বোমা পড়ছে। সে সময় ঘরের দরজা-জানালাসহ সবকিছু কেঁপে ওঠে।

উখিয়ার পালংখালীর কাশেম সওদাগর ও রহমতের বিল গ্রামের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন বলেন, হঠাৎ বজ্রপাতের মতো প্রচণ্ড শব্দে প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি। এমন বিকট গোলাবর্ষণের শব্দ তিনি সাম্প্রতিক সময়ে শোনেননি বলে জানান। একই ধরনের শব্দ রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও আশ্রিত রোহিঙ্গারা শুনেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা জানান, উত্তর মংডু এলাকায় চালানো বিমান হামলার শব্দ কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকেও স্পষ্টভাবে শোনা গেছে।

এ বিষয়ে বিজিবি উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)–এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জসীম উদ্দিন বলেন, শনিবার রাত ১০টা ৩৮ মিনিট থেকে ১০টা ৫৫ মিনিটের মধ্যে হোয়াইক্যং বিওপির নিকটবর্তী মায়ানমারের অভ্যন্তরে একাধিক বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরিস্থিতি সীমান্তে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান।