ঢাকা ০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আর রাজপথে নয়, সব রাজনৈতিক কার্যক্রম সংসদ কেন্দ্রিক করতে হবে’: মন্তব্য মির্জা ফখরুলের

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, সমস্ত কর্মকাণ্ডকে আর রাস্তায় নয়, বরং সংসদ কেন্দ্রিক করতে হবে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে যে আবর্জনা তৈরি করে গেছে, যে জঞ্জাল সৃষ্টি করেছে, সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। এগুলোকে মাত্র এক বছরের মধ্যে সব ঠিক করে ফেলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্ব নিয়ে, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে পার্লামেন্ট আসবে, সেই পার্লামেন্টারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দিকেই আমাদের নজর দিতে হবে। সমস্ত কর্মকাণ্ডকে পার্লামেন্ট কেন্দ্রিক করতে হবে।”

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে একটি শ্রমিক সংগঠনের সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এটা না করলে পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি ফাংশন করবে না। এ কথাগুলো আমাদের বুঝতে হবে। পৃথিবীর যেসব দেশে পার্লামেন্ট ডেমোক্রেসি সফল হয়েছে, সবগুলোতে কিন্তু পার্লামেন্ট হচ্ছে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সেখানেই (সংসদ) এই কাজগুলো করতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দাবি-দাওয়ার প্রতি তাঁর এবং তাঁর দলের পূর্ণ সমর্থনের কথাও ব্যক্ত করেন।

‘আর কতদিন রাস্তায়, সংসদে আসতে হবে’

মির্জা ফখরুল বলেন, “রাস্তা থেকে উঠে চলে আসতে হবে পার্লামেন্টে। আর কতদিন রাস্তায় থাকবেন? ৫০ বছর তো আমরা রাস্তায় চলছি। এই সমস্যাগুলোকে ঠিক করে এই জাতীয় সনদের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে যদি আমরা একটা কালচারে পরিণত করতে পারি, সেই চেষ্টা আমাদের করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন যেন অনুষ্ঠিত হয়, সবাই যেন অংশগ্রহণ করে। আমরা সবাই যেভাবে ছোটখাটো আমাদের ভিন্নতা ও দূরত্ব দূর করে সনদ সই করতে পেরেছি, আসুন আগামী নির্বাচন আমরা সেইভাবে আমাদের দূরত্বকে দূর করে সত্যিকার অর্থেই একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচনে পরিণত করি।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থাৎ একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা আমাদের পার্লামেন্টকে সত্যিকার অর্থে প্রাণবন্ত করে গড়ে তুলবেন, অর্থবহ করবেন এবং সেই পার্লামেন্ট হবে আমাদের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু—এভাবে আমরা যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। গণতন্ত্রকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হই, তাহলে আমার ধারণা, আমার বিশ্বাস, সেখানে সব শ্রেণী, বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণীর দাবি-দাওয়া সেখানে পূরণ হবে, স্বীকৃত হবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মোস্তফা খান, আইয়ুব আলী, আবু সালেহ মো. তোফায়েল চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন খান, মাহমুদুল করীম, মাহবুবুল হক রিপন, বিদ্যু শ্রমিক ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সুমন ভূঁইয়া, উত্তরের কামরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভরাডুবি: ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হওয়ার ঝুঁকিতে শ্রীলঙ্কা, সাঙ্গাকারার কড়া হুঁশিয়ারি

আর রাজপথে নয়, সব রাজনৈতিক কার্যক্রম সংসদ কেন্দ্রিক করতে হবে’: মন্তব্য মির্জা ফখরুলের

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, সমস্ত কর্মকাণ্ডকে আর রাস্তায় নয়, বরং সংসদ কেন্দ্রিক করতে হবে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে যে আবর্জনা তৈরি করে গেছে, যে জঞ্জাল সৃষ্টি করেছে, সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। এগুলোকে মাত্র এক বছরের মধ্যে সব ঠিক করে ফেলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়।” তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্ব নিয়ে, দায়িত্বশীলতার সঙ্গে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে পার্লামেন্ট আসবে, সেই পার্লামেন্টারি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার দিকেই আমাদের নজর দিতে হবে। সমস্ত কর্মকাণ্ডকে পার্লামেন্ট কেন্দ্রিক করতে হবে।”

শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে একটি শ্রমিক সংগঠনের সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, “এটা না করলে পার্লামেন্টারি ডেমোক্রেসি ফাংশন করবে না। এ কথাগুলো আমাদের বুঝতে হবে। পৃথিবীর যেসব দেশে পার্লামেন্ট ডেমোক্রেসি সফল হয়েছে, সবগুলোতে কিন্তু পার্লামেন্ট হচ্ছে রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। সেখানেই (সংসদ) এই কাজগুলো করতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দাবি-দাওয়ার প্রতি তাঁর এবং তাঁর দলের পূর্ণ সমর্থনের কথাও ব্যক্ত করেন।

‘আর কতদিন রাস্তায়, সংসদে আসতে হবে’

মির্জা ফখরুল বলেন, “রাস্তা থেকে উঠে চলে আসতে হবে পার্লামেন্টে। আর কতদিন রাস্তায় থাকবেন? ৫০ বছর তো আমরা রাস্তায় চলছি। এই সমস্যাগুলোকে ঠিক করে এই জাতীয় সনদের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে যদি আমরা একটা কালচারে পরিণত করতে পারি, সেই চেষ্টা আমাদের করতে হবে।”

তিনি বলেন, “এই নির্বাচন যেন অনুষ্ঠিত হয়, সবাই যেন অংশগ্রহণ করে। আমরা সবাই যেভাবে ছোটখাটো আমাদের ভিন্নতা ও দূরত্ব দূর করে সনদ সই করতে পেরেছি, আসুন আগামী নির্বাচন আমরা সেইভাবে আমাদের দূরত্বকে দূর করে সত্যিকার অর্থেই একটি অর্থপূর্ণ নির্বাচনে পরিণত করি।”

তিনি আরও বলেন, “অর্থাৎ একটা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক এবং সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁরা আমাদের পার্লামেন্টকে সত্যিকার অর্থে প্রাণবন্ত করে গড়ে তুলবেন, অর্থবহ করবেন এবং সেই পার্লামেন্ট হবে আমাদের রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু—এভাবে আমরা যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারি। গণতন্ত্রকে যদি আমরা সত্যিকার অর্থে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হই, তাহলে আমার ধারণা, আমার বিশ্বাস, সেখানে সব শ্রেণী, বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণীর দাবি-দাওয়া সেখানে পূরণ হবে, স্বীকৃত হবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ড জাতীয়তাবাদী শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমদ, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাসিম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মোস্তফা খান, আইয়ুব আলী, আবু সালেহ মো. তোফায়েল চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন খান, মাহমুদুল করীম, মাহবুবুল হক রিপন, বিদ্যু শ্রমিক ইউনিয়নের আবুল কালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের সুমন ভূঁইয়া, উত্তরের কামরুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।