ঢাকা ০৪:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রতীক নিয়ে জোর করলে রাজপথেই ফয়সালা হবে: হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ‘শাপলা’ প্রতীকই হবে তাদের দলের মার্কা। তিনি বলেন, “সেই মার্কা নিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই, করবো।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও আইন মেনে না চলে, যদি গায়ের জোরে বা অন্য কারও নির্দেশে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার প্রতিবাদ অবশ্যই জানানো হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের যদি এভাবে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার কোনো অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই রাজপথই হবে আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে আমরা পরিস্থিতি সেই দিকে নিয়ে যেতে চাই না।”

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা মোটরে অবস্থিত এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আমরা খুব সহজ একটি প্রশ্ন করেছি— কেন আমরা শাপলা প্রতীক পাবো না, সে বিষয়ে আমাদের একটি আইনি ব্যাখ্যা দিন। যদি ব্যাখ্যা দেন, আমি অন্য প্রতীক নেবো। আর যদি ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তবে এই প্রতীক আমাদের দিতেই হবে।”

নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে প্রথম থেকেই তাঁদের প্রশ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিবন্ধনের বিষয়গুলোর আগেও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের ক্ষোভ ছিল যে তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, কমিশন সঠিকভাবে গঠিত হয়নি, আমরা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। এসব কিন্তু প্রতীক ইস্যুরও আগের কথা।” ফলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই টানাপড়েনকে শুধু দলীয় বিষয় হিসেবে দেখছেন না তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি এবং উদ্বেগ জানাচ্ছি যে এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে একটি নির্বাচন পরিচালনার ইচ্ছা বা সক্ষমতা রাখে কিনা। তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের এই উদ্বেগ বজায় থাকবে।”

এনসিপির এই আহ্বায়ক আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যেহেতু দ্রুত ঘনিয়ে আসছে, তাই খুব শিগগিরই তাঁদের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলা হয়, আমরা সেই বিষয়ে কড়া নজর রাখছি।” বিশেষ করে, সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তাদের কমিটি ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, কীভাবে নিয়োগগুলো হচ্ছে, পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে কিনা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন বা বদলি হচ্ছে কিনা—এই সব বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, “কিছুক্ষণ আগে বিএনপির সালাহউদ্দিন সাহেব গতকাল (শুক্রবার) জুলাই মাসের আন্দোলনকারী যোদ্ধাদের ওপর হামলার জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারীদের দায়ী করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তিনি মনে করেন, হয়তো তথ্য না থাকার কারণে বা ভুলবশত তিনি এমন কথা বলেছেন। তাঁর যুক্তি, “যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না, জুলাই মাসে রাজপথে ছিলেন না, সেহেতু তিনি জানেন না কে রাজপথে ছিল, কারা আসলে লড়াই করেছিল।” ফলে তাঁর আহ্বান থাকবে, তিনি যেন তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করেন এবং আহত ও শহিদ পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি তিনি যেন তাদের সঙ্গে বসে অভ্যুত্থানের সেই কাহিনিগুলো শোনেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পাটগ্রামে ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে শোরুম ম্যানেজারের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রতীক নিয়ে জোর করলে রাজপথেই ফয়সালা হবে: হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

আপডেট সময় : ০৩:৫১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে ‘শাপলা’ প্রতীকই হবে তাদের দলের মার্কা। তিনি বলেন, “সেই মার্কা নিয়ে আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই, করবো।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে নির্বাচন কমিশন যদি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হয়েও আইন মেনে না চলে, যদি গায়ের জোরে বা অন্য কারও নির্দেশে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার প্রতিবাদ অবশ্যই জানানো হবে। তাঁর কথায়, “আমাদের যদি এভাবে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার কোনো অপচেষ্টা করা হয়, তাহলে অবশ্যই রাজপথই হবে আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে আমরা পরিস্থিতি সেই দিকে নিয়ে যেতে চাই না।”

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বাংলা মোটরে অবস্থিত এনসিপি কার্যালয়ে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আমরা খুব সহজ একটি প্রশ্ন করেছি— কেন আমরা শাপলা প্রতীক পাবো না, সে বিষয়ে আমাদের একটি আইনি ব্যাখ্যা দিন। যদি ব্যাখ্যা দেন, আমি অন্য প্রতীক নেবো। আর যদি ব্যাখ্যা দিতে না পারেন, তবে এই প্রতীক আমাদের দিতেই হবে।”

নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে প্রথম থেকেই তাঁদের প্রশ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিবন্ধনের বিষয়গুলোর আগেও নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের ক্ষোভ ছিল যে তারা পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে, কমিশন সঠিকভাবে গঠিত হয়নি, আমরা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলাম। এসব কিন্তু প্রতীক ইস্যুরও আগের কথা।” ফলে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এই টানাপড়েনকে শুধু দলীয় বিষয় হিসেবে দেখছেন না তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা সন্দেহ প্রকাশ করছি এবং উদ্বেগ জানাচ্ছি যে এই নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষভাবে একটি নির্বাচন পরিচালনার ইচ্ছা বা সক্ষমতা রাখে কিনা। তাই নির্বাচন কমিশন নিয়ে আমাদের এই উদ্বেগ বজায় থাকবে।”

এনসিপির এই আহ্বায়ক আরও বলেন, নির্বাচনের সময় যেহেতু দ্রুত ঘনিয়ে আসছে, তাই খুব শিগগিরই তাঁদের প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, “নির্বাচনে যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলা হয়, আমরা সেই বিষয়ে কড়া নজর রাখছি।” বিশেষ করে, সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তাদের কমিটি ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা, কীভাবে নিয়োগগুলো হচ্ছে, পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে কিনা, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন বা বদলি হচ্ছে কিনা—এই সব বিষয়ে তাঁদের যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হচ্ছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, “কিছুক্ষণ আগে বিএনপির সালাহউদ্দিন সাহেব গতকাল (শুক্রবার) জুলাই মাসের আন্দোলনকারী যোদ্ধাদের ওপর হামলার জন্য ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের অনুসারীদের দায়ী করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তিনি মনে করেন, হয়তো তথ্য না থাকার কারণে বা ভুলবশত তিনি এমন কথা বলেছেন। তাঁর যুক্তি, “যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না, জুলাই মাসে রাজপথে ছিলেন না, সেহেতু তিনি জানেন না কে রাজপথে ছিল, কারা আসলে লড়াই করেছিল।” ফলে তাঁর আহ্বান থাকবে, তিনি যেন তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করেন এবং আহত ও শহিদ পরিবারের কাছে ক্ষমা চান। পাশাপাশি তিনি যেন তাদের সঙ্গে বসে অভ্যুত্থানের সেই কাহিনিগুলো শোনেন।