ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংকটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ এবং ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপুকে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভারতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু করে।

অন্যদিকে, ঢাকায় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গুজবে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকমিশনারদের তলব করেছে, যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে নজিরবিহীন অবিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ধর্মীয় মৌলবাদী ও অসহিষ্ণু গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো গণপিটুনি ও মাজার ভাঙচুরের মতো ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলীর মতে, কট্টরপন্থিরা এখন যে কাউকে ‘ভারতপন্থি’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর হামলাকে বৈধতা দিচ্ছে, যার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। ভারতের নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ভারতের গণমাধ্যমের একাংশের অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রচার এবং দুই দেশের ডানপন্থি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য জনরোষকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, আস্থা পুনর্গঠনের জন্য ভারতকে বাংলাদেশের বর্তমান মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মেনে নিয়ে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভারতের পার্লামেন্টারি প্যানেলও বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রাজপথের ক্ষোভ যেন দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আপাতত সহিংসতা রোধ এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

সংকটে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

আপডেট সময় : ০৮:৫০:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভ এবং ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ককে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপুকে হত্যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভারতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যার প্রতিক্রিয়ায় হিন্দু জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীগুলো সীমান্তে বিক্ষোভ শুরু করে।

অন্যদিকে, ঢাকায় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার গুজবে বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও তীব্র হয়েছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে হাইকমিশনারদের তলব করেছে, যা সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ককে নজিরবিহীন অবিশ্বাসের জায়গায় নিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, শেখ হাসিনার পতনের পর দেশে ধর্মীয় মৌলবাদী ও অসহিষ্ণু গোষ্ঠীগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো গণপিটুনি ও মাজার ভাঙচুরের মতো ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ বিন আলীর মতে, কট্টরপন্থিরা এখন যে কাউকে ‘ভারতপন্থি’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর হামলাকে বৈধতা দিচ্ছে, যার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। ভারতের নীতিনির্ধারকরাও মনে করছেন, ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দিল্লির জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ভারতের গণমাধ্যমের একাংশের অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রচার এবং দুই দেশের ডানপন্থি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্য জনরোষকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সাবেক কূটনীতিকদের মতে, আস্থা পুনর্গঠনের জন্য ভারতকে বাংলাদেশের বর্তমান মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা মেনে নিয়ে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। ভারতের পার্লামেন্টারি প্যানেলও বাংলাদেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, রাজপথের ক্ষোভ যেন দীর্ঘমেয়াদী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে চিরতরে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আপাতত সহিংসতা রোধ এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।