ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বড়দিনের সন্ধ্যায়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

কদিন ধরেই ছুটি, বড়দিন গায়ের উপর এসে পড়তেই
ভাবলাম বাইরের সন্ধেটা হাতের কাছে এনে খুলে দেখা যাক—

আমার নির্জন ঘর, তার করোটিতে উৎসবেরা একা, আয়ুহীন,
তবু আমি জাগতিক, শামুকের মতো পায়ে ঘর থেকে বের হই—
চারপাশে আলো দেখি, অথচ তখন সন্ধ্যা সারা পথে জমে আছে,
দু’পাশের বাড়িগুলো যেন উৎসবজড়িত, কাচজানালার দেহে
ঝুলে আছে জাদুকরী উষ্ণ আলোর নক্ষত্র, আর দেওয়াল গলে
উপচে পড়ছে শুধু মানুষের অবিরাম মধুমাখা কলরব,
কাছের মানুষদের আরো কাছে এসে যেন আনন্দে ফাটছে তারা,
পথে আমি একা হাঁটি, আকাশে জমাট অন্ধকার আর অমাবস্যা,
আচম্বিতে কিছু লোক ছোট ছোট দলে আমাকে পাশ কাটিয়ে যায়,
তাদের হাসি আর সুরভি রাত্রির বাতাসে বিকেলের স্বর রাখে,
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি দুপাশে পরিখা আরও গহিন হচ্ছে—

তবু আমি হাঁটি, দোকানগুলোতে আলো নেই, দূরে দেখি জমকালো
গির্জার ঘণ্টা বাজছে, আর লোকেরা আছড়ে পড়া শব্দের ভেতর
অগণন ছায়া ভেঙে ভেঙে হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে আসছে,
তাদের শরীরে আমোদিত হয়ে আছে অনুপম নতুন পোশাক,
পরিজন সাথে করে আরও কিছুটা পরে তারা বাড়ি ফিরে যায়,
তারা ফিরে যায় তাদের মুহূর্ত আর নিবিড় উৎসবের ভেতর।
তবু আমি হাঁটি, মনে হয় কোনো দূরে পুরোনো কোথাও চলে যাই—

শীত আরো বাড়ে, ম্যাপেল গাছের পাতাগুলো সারা পথে জমে থাকে,
ঘরে ফিরতে ফিরতে দেখি আমার সমস্ত দেহে রাত্রি ভরে গেছে—

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেসির গোলে মিয়ামির ঘামঝরানো জয়, মাঠে ভক্তের কাণ্ডে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি

বড়দিনের সন্ধ্যায়

আপডেট সময় : ০৮:৪০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

কদিন ধরেই ছুটি, বড়দিন গায়ের উপর এসে পড়তেই
ভাবলাম বাইরের সন্ধেটা হাতের কাছে এনে খুলে দেখা যাক—

আমার নির্জন ঘর, তার করোটিতে উৎসবেরা একা, আয়ুহীন,
তবু আমি জাগতিক, শামুকের মতো পায়ে ঘর থেকে বের হই—
চারপাশে আলো দেখি, অথচ তখন সন্ধ্যা সারা পথে জমে আছে,
দু’পাশের বাড়িগুলো যেন উৎসবজড়িত, কাচজানালার দেহে
ঝুলে আছে জাদুকরী উষ্ণ আলোর নক্ষত্র, আর দেওয়াল গলে
উপচে পড়ছে শুধু মানুষের অবিরাম মধুমাখা কলরব,
কাছের মানুষদের আরো কাছে এসে যেন আনন্দে ফাটছে তারা,
পথে আমি একা হাঁটি, আকাশে জমাট অন্ধকার আর অমাবস্যা,
আচম্বিতে কিছু লোক ছোট ছোট দলে আমাকে পাশ কাটিয়ে যায়,
তাদের হাসি আর সুরভি রাত্রির বাতাসে বিকেলের স্বর রাখে,
নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি দুপাশে পরিখা আরও গহিন হচ্ছে—

তবু আমি হাঁটি, দোকানগুলোতে আলো নেই, দূরে দেখি জমকালো
গির্জার ঘণ্টা বাজছে, আর লোকেরা আছড়ে পড়া শব্দের ভেতর
অগণন ছায়া ভেঙে ভেঙে হাত ধরাধরি করে বেরিয়ে আসছে,
তাদের শরীরে আমোদিত হয়ে আছে অনুপম নতুন পোশাক,
পরিজন সাথে করে আরও কিছুটা পরে তারা বাড়ি ফিরে যায়,
তারা ফিরে যায় তাদের মুহূর্ত আর নিবিড় উৎসবের ভেতর।
তবু আমি হাঁটি, মনে হয় কোনো দূরে পুরোনো কোথাও চলে যাই—

শীত আরো বাড়ে, ম্যাপেল গাছের পাতাগুলো সারা পথে জমে থাকে,
ঘরে ফিরতে ফিরতে দেখি আমার সমস্ত দেহে রাত্রি ভরে গেছে—