ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রাকসু জিএসের হুমকির পর যা বলছেন রাবির শিক্ষকরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কলার ধরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অনেকেই। নিরাপত্তা শঙ্কায় ক্লাস-পরীক্ষা নিতে অপারগতার কথাও বলেছিলেন এক শিক্ষক।

এদিকে, রাকসু, ছাত্রশিবিরের দাবির মুখে আওয়ামী লীগপন্থি ছয় ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ক্লাস-পরীক্ষা নিতে অপারগতা প্রকাশ করা আওয়ামী লীগপন্থি সেই শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান আজ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এক ফেসবুক পোস্টে কাজী জাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘নিজের নিরাপত্তার অভাবে আমি ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিলাম। আমার স্ট্যাটাসের পরে সারা দেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, ছাত্রদল, ছাত্রলীগসহ অনেক সংগঠন ক্যাম্পাসে মবক্রেসির বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে, নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়েছে। শিক্ষকদের অসম্মান করে যেসব অশ্রাব্য কথা বলা হয়েছে, আজ সারা বাংলাদেশের মানুষ তার নিন্দা করছে। এটিই আমার সফলতা। শিক্ষার্থী তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আজ থেকে একডেমিক কাজে যোগদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সার্বিকভাবে নিরাপত্তার কথা বলেছি৷ শিক্ষকরা যাতে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে ভয় না পান৷  যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের বিষয়েও আমরা জানিয়েছি৷ এখন অনেক শিক্ষক আতঙ্কের ভেতর আছেন, যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে শিক্ষকদের প্রতি তাতে সম্মানহানি হয়েছে। এ থেকে শিক্ষকদের মধ্যে যে ক্ষোভ হচ্ছে, সেখান থেকেও অনেক কিছু হতে পারে। শোনা যাচ্ছে তারা ভর্তি পরীক্ষা নেবেন না৷’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আগস্টের পরে যে বৈষম্যমূলক নিয়োগ হয়েছে মেডিক্যালসহ অন্যান্য জায়গায় যাচাইবাছাই ছাড়া এবং এখনও কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে। সেগুলো থেকে প্রশাসন যদি বিরত থাকে তাহলে ভালো হবে৷ এখন কোনও কিছু হলেই যে “মব” হচ্ছে সেটা যাতে না হয় সে বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে৷’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে অবগত আছি এবং আমরা রাকসুর সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে কোনও শিক্ষকের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয় বা তারা যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন৷’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতের ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল

রাকসু জিএসের হুমকির পর যা বলছেন রাবির শিক্ষকরা

আপডেট সময় : ০৬:৪৪:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫

আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে কলার ধরে প্রশাসনিক ভবনের সামনে বেঁধে রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ-রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অনেকেই। নিরাপত্তা শঙ্কায় ক্লাস-পরীক্ষা নিতে অপারগতার কথাও বলেছিলেন এক শিক্ষক।

এদিকে, রাকসু, ছাত্রশিবিরের দাবির মুখে আওয়ামী লীগপন্থি ছয় ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ক্লাস-পরীক্ষা নিতে অপারগতা প্রকাশ করা আওয়ামী লীগপন্থি সেই শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান আজ থেকে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এক ফেসবুক পোস্টে কাজী জাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘নিজের নিরাপত্তার অভাবে আমি ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করা সম্ভব হবে না বলে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছিলাম। আমার স্ট্যাটাসের পরে সারা দেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিবাদ করেছেন। আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম, ছাত্রদল, ছাত্রলীগসহ অনেক সংগঠন ক্যাম্পাসে মবক্রেসির বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছে, নিজেদের অবস্থানের জানান দিয়েছে। শিক্ষকদের অসম্মান করে যেসব অশ্রাব্য কথা বলা হয়েছে, আজ সারা বাংলাদেশের মানুষ তার নিন্দা করছে। এটিই আমার সফলতা। শিক্ষার্থী তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে আজ থেকে একডেমিক কাজে যোগদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’

বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন ইউট্যাবের রাবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমরা সার্বিকভাবে নিরাপত্তার কথা বলেছি৷ শিক্ষকরা যাতে ক্লাস-পরীক্ষা নিতে ভয় না পান৷  যারা দোষী তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের বিষয়েও আমরা জানিয়েছি৷ এখন অনেক শিক্ষক আতঙ্কের ভেতর আছেন, যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে শিক্ষকদের প্রতি তাতে সম্মানহানি হয়েছে। এ থেকে শিক্ষকদের মধ্যে যে ক্ষোভ হচ্ছে, সেখান থেকেও অনেক কিছু হতে পারে। শোনা যাচ্ছে তারা ভর্তি পরীক্ষা নেবেন না৷’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আগস্টের পরে যে বৈষম্যমূলক নিয়োগ হয়েছে মেডিক্যালসহ অন্যান্য জায়গায় যাচাইবাছাই ছাড়া এবং এখনও কিছু প্রক্রিয়াধীন আছে। সেগুলো থেকে প্রশাসন যদি বিরত থাকে তাহলে ভালো হবে৷ এখন কোনও কিছু হলেই যে “মব” হচ্ছে সেটা যাতে না হয় সে বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে৷’

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এই বিষয়ে অবগত আছি এবং আমরা রাকসুর সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলেছি, যাতে কোনও শিক্ষকের সম্মান ক্ষুণ্ন না হয় বা তারা যেন নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন৷’