ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভূমিকম্পের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা: ঢাবির কোনও হল ঝুঁকিপূর্ণ নয়

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর ভবন নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও কোনোটিই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে ভূমিকম্প-পরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কমিটির প্রতিবেদন এবং সংস্কার কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে আমাদের কোনও হল বসবাসের অনুপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। আমাদের বিদ্যমান হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদেই থাকতে পারবে।” 

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে চারটি কারিগরি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপকরা ছিলেন। এসব কমিটির প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি— এই তিন ধরনের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এছাড়া কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মোট ১৯টি সংস্কার কাজ চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে শামসুন্নাহার হলের ওয়াশরুম ব্লকের পানির ট্যাংক সরিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্লাস্টিকের ট্যাংক স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে দু-এক দিনের মধ্যে স্টিল প্রপ মেরামতের কাজ শুরু হবে। 

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রতিবেদনে কয়েকটি হলে ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিইএ সম্পন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের কাজ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা যাবে।” 

কোষাধ্যক্ষ আরও জানান, এরই মধ্যে তিনটি হলের মেরামত কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১৭৫টি কক্ষের মধ্যে ১৬৭টি, সূর্যসেন হলের ১৪১টি কক্ষ এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১২১টি কক্ষের সবগুলোর মেরামত শেষ হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবন পরিদর্শনের লক্ষ্যে গত ২২ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। সে সময় শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি চলছে, যা ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

ভূমিকম্পের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা: ঢাবির কোনও হল ঝুঁকিপূর্ণ নয়

আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর ভবন নিয়ে আতঙ্ক থাকলেও কোনোটিই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ নয় বলে নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবদুল মতিন ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে ভূমিকম্প-পরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ ভবন তদারকি কমিটির চেয়ারম্যান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী কমিটির প্রতিবেদন এবং সংস্কার কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, “বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনে আমাদের কোনও হল বসবাসের অনুপযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। আমাদের বিদ্যমান হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা নিরাপদেই থাকতে পারবে।” 

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত ২১ নভেম্বর ভূমিকম্পের পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে চারটি কারিগরি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি কমিটিতে বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসেবে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপকরা ছিলেন। এসব কমিটির প্রতিবেদনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি— এই তিন ধরনের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত ছিলো। এছাড়া কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী মোট ১৯টি সংস্কার কাজ চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে শামসুন্নাহার হলের ওয়াশরুম ব্লকের পানির ট্যাংক সরিয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্লাস্টিকের ট্যাংক স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এছাড়া সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় সেখানে দু-এক দিনের মধ্যে স্টিল প্রপ মেরামতের কাজ শুরু হবে। 

অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “প্রতিবেদনে কয়েকটি হলে ডিটেইলড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট (ডিইএ) করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগে। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ডিইএ সম্পন্ন হলে দীর্ঘমেয়াদে কী ধরনের কাজ প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা যাবে।” 

কোষাধ্যক্ষ আরও জানান, এরই মধ্যে তিনটি হলের মেরামত কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১৭৫টি কক্ষের মধ্যে ১৬৭টি, সূর্যসেন হলের ১৪১টি কক্ষ এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের ১২১টি কক্ষের সবগুলোর মেরামত শেষ হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ভূমিকম্পের পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ভবন পরিদর্শনের লক্ষ্যে গত ২২ নভেম্বর থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছিল। সে সময় শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীতকালীন ছুটি চলছে, যা ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।