স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে পুরো মন্ত্রণালয় হাসিনার সরকারের মতো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর শাহবাগে পাবলিক লাইব্রেরির সামনে ‘সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়।
সমাবেশে বলা হয়, প্রকাশিত খসড়ার কমপক্ষে দুটি নাগরিক সুরক্ষাবিষয়ক বিধান সরিয়ে ফেলে আগামী সপ্তাহে আরেকটি নতুন খসড়া উপস্থাপন করা হবে। এটি নাগরিকদের সঙ্গে কোনও ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই করা হচ্ছে। নজরদারির মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হতে চাইছে, যা নাগরিকদের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং হাসিনা আমলের নজরদারি ক্ষমতা পুনরায় চালু হওয়ার বাস্তবতা তৈরি করবে।
বক্তারা বলেন, আড়িপাতা ও নজরদারির ক্ষমতা কার হাতে থাকবে, কোন সংস্থাগুলো আড়িপাতার অনুমোদন পাবে, কে তদারকি করবে এবং ক্ষমতার বণ্টন কীভাবে নির্ধারিত হবে—এসব বিষয় নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যা ভয়াবহভাবে হাসিনা আমলের দিনগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
সমাবেশে বলা হয়, মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত প্রস্তাবিত খসড়াটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক করার বিধান ছিল। নজরদারির অনুরোধ, অনুমোদন ও প্রত্যাখ্যানসংক্রান্ত পরিসংখ্যানসহ বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রয়োজনীয়তাও ছিল। কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত গোপন খসড়ায় কেবল সংসদে প্রতিবেদনের একটি সাধারণ উল্লেখ রাখা হচ্ছে এবং জনসাধারণের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পূর্ববর্তী খসড়ায় নাগরিক, বিচারক ও সাংবিধানিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আধা-বিচারিক কাউন্সিল গঠনের বিধান ছিল। তবে এখন শোনা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা এই আধা-বিচারিক কাউন্সিল চান না। বরং স্বরাষ্ট্র সচিবের সভাপতিত্বে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রধান কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কাউন্সিল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কাউন্সিল সদস্যদের মেয়াদ, নিয়োগ, পুনর্নিয়োগ বা প্রতিস্থাপন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি কাউন্সিলের বৈঠক, আড়িপাতার আবেদন পর্যালোচনা এবং অনুমোদন, সংশোধন বা প্রত্যাখ্যানের প্রক্রিয়াও স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, অধ্যাদেশের একাধিক ধারায় যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যক্রমের জবাবদিহির ব্যবস্থা হিসেবে বিচারিক তদারকির ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিন বলেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার নেতৃত্বে পুরো মন্ত্রণালয় হাসিনার সরকারের মতো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫–কে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। গণঅভ্যুত্থানের জোরে ক্ষমতায় বসে সেই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ব্যর্থ করতে এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ধারাবাহিকতা রক্ষার সুযোগ প্রসারিত করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে গণঅভ্যুত্থানবিরোধী ভূমিকা থেকে সরে আসার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাকী বিল্লাহ বলেন, “ফ্যাসিবাদ কোনও ব্যক্তি নয়, এটি একটি ব্যবস্থা। হাসিনা চলে গেলেও অযোগ্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সেই ব্যবস্থা বহাল রাখার চেষ্টা করছেন। এরই অংশ হিসেবে টেলিযোগাযোগ (সংশোধিত) অধ্যাদেশ–২০২৫–এ হস্তক্ষেপের চেষ্টা চলছে।”
লেখক ও সংগঠক নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অ্যাক্টিভিস্ট রাফসান আহমেদ, সংস্কৃতিকর্মী রহমান মুফিজ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবের আহমেদ জুবেল, ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাছির এবং বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সদস্য আবু বক্কর মঈনসহ অনেকে।
রিপোর্টারের নাম 





















