ঢাকা ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

নীতিগত দুর্বলতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে

সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ত্রুটি ও বাস্তবায়নগত দুর্বলতার কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এর ফলে অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং শ্রমিকরা ঋণদাসত্ব ও চরম নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ছে। 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোর : কেন সিন্ডিকেট টিকে থাকে এবং নিয়োগে শোষণ অব্যাহত থাকে!’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এই সংলাপে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশ-এর সহায়তায় স্ট্রেনদেনথ অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস) প্রকল্পের আওতায় অংশীজনরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। 

স্বাগত বক্তব্যে ওকাপের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নাসিম এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ শামায়লা মাহবুব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বিভিন্ন নিয়োগ মডেল কেন সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে সৎ ও সমালোচনামূলক আত্মবিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 

সংলাপের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করতে গিয়ে ওকাপের চেয়ারপারসন ও সামাজিক গবেষক শাকিরুল ইসলাম বাংলাদেশ মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোরের ঐতিহাসিক গতিপথ তুলে ধরেন এবং অস্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা ও নীতিগত ব্যর্থতার ফলে অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ওপর পড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, “অস্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা ও নীতিগত ব্যর্থতার ফলে অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে।” 

সংলাপের মুক্ত আলোচনাপর্বে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মত তুলে ধরেন। 

মালয়েশিয়া থেকে ফেরা শ্রমিক নিরঞ্জন তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “৫ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। বিমানবন্দরে বাধ্য করা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে টাকার বিষয়ে মিথ্যা বলতে। সেখানে কয়েক মাস কাজ করার পর হঠাৎ মালিক পালিয়ে যায় এবং আমরা বেকার হয়ে পড়ি। প্রতিবাদ করলে মালয়েশিয়া সরকার আমাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।” এই ব্যবস্থা শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করে দেয় বলেও জানান তিনি। 

এদিকে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণে সৎ এজেন্সিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা নির্ধারিত দামে ডিমান্ড লেটার কিনেছিলাম, কিন্তু পরে সিন্ডিকেট-সংযুক্ত অন্য একটি এজেন্সি একই ডিমান্ড লেটারের জন্য অনেক বেশি অর্থের প্রস্তাব দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।” 

মালয়েশিয়ার আরেকজন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি জানান, “দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী অভিবাসী শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক ও অনিবন্ধিত খাতে কাজ করছেন। তিনি তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রেমিট্যান্সে তাদের ভূমিকা নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।” অভিবাসন নিয়োগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলেও জানান তিনি। 

প্রথম আলোর সাংবাদিক মহিউদ্দিন নিলয় বলেন, “করিডোরের দুই পাশেই সিন্ডিকেট সক্রিয়। আমাদের দূতাবাসকে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হতে হবে।” 

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি এড্রিয়ান পেরেইরা বলেন, “মালয়েশিয়ায় দুর্নীতি অত্যন্ত ব্যাপক এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে কোনো সংস্কার বাস্তবায়ন হচ্ছে না।” 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পলিসি উপদেষ্টা জিয়া হাসান সংলাপের সুপারিশগুলোকে বাস্তব নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করা এবং প্রেরণ ও গন্তব্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই করিডোরটি এখন একটি সংগঠিত অপরাধ কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো স্বীকার করতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে।”  

সংলাপে রামরুর প্রোগ্রাম পরিচালক মেরিনা সুলতানা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা কেন সব সময় গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে নতজানু হবো?” অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শীপা হাফিজা ও আসিফ মুনীর নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রোথিত স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাঠামোগত সংস্কার এবং ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনরায় একত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ওকাপের চেয়ারপারসন ও সামাজিক গবেষক শাকিরুল ইসলাম সব অংশীজনকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে এই করিডোরের সংস্কার নিশ্চিত করা যায় এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।  

প্রসঙ্গত, সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশ মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোরের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ব্যর্থতাগুলো সমালোচনামূলকভাবে পর্যালোচনা করা, বিশেষ করে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার সত্ত্বেও কীভাবে নিয়োগ সিন্ডিকেটের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ চলমান আছে তা বিশ্লেষণ করা। 

সংলাপে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, বোয়েসেল, পিকেবি, রিক্রুটিং এজেন্সি, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, অভিবাসী শ্রমিক এবং মালয়েশিয়ার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।  

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫ মার্চ: টিভি পর্দায় ক্রিকেট-ফুটবলের ডাবল ধামাকা!

নীতিগত দুর্বলতায় মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে

আপডেট সময় : ০৭:০০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫

সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের ত্রুটি ও বাস্তবায়নগত দুর্বলতার কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সিন্ডিকেটের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে। এর ফলে অভিবাসন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং শ্রমিকরা ঋণদাসত্ব ও চরম নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়ছে। 

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোর : কেন সিন্ডিকেট টিকে থাকে এবং নিয়োগে শোষণ অব্যাহত থাকে!’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) আয়োজিত এই সংলাপে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে এবং হেলভেটাস বাংলাদেশ-এর সহায়তায় স্ট্রেনদেনথ অ্যান্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস) প্রকল্পের আওতায় অংশীজনরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। 

স্বাগত বক্তব্যে ওকাপের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নাসিম এবং হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন বাংলাদেশের অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ শামায়লা মাহবুব দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও বিভিন্ন নিয়োগ মডেল কেন সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, সে বিষয়ে সৎ ও সমালোচনামূলক আত্মবিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। 

সংলাপের প্রেক্ষাপট নির্ধারণ করতে গিয়ে ওকাপের চেয়ারপারসন ও সামাজিক গবেষক শাকিরুল ইসলাম বাংলাদেশ মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোরের ঐতিহাসিক গতিপথ তুলে ধরেন এবং অস্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা ও নীতিগত ব্যর্থতার ফলে অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের ওপর পড়া সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। 

তিনি বলেন, “অস্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা ও নীতিগত ব্যর্থতার ফলে অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে ভয়াবহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হচ্ছে।” 

সংলাপের মুক্ত আলোচনাপর্বে অংশগ্রহণকারীরা তাদের মত তুলে ধরেন। 

মালয়েশিয়া থেকে ফেরা শ্রমিক নিরঞ্জন তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “৫ লাখ টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। বিমানবন্দরে বাধ্য করা হয়েছে কর্তৃপক্ষকে টাকার বিষয়ে মিথ্যা বলতে। সেখানে কয়েক মাস কাজ করার পর হঠাৎ মালিক পালিয়ে যায় এবং আমরা বেকার হয়ে পড়ি। প্রতিবাদ করলে মালয়েশিয়া সরকার আমাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।” এই ব্যবস্থা শ্রমিকদের জীবন ধ্বংস করে দেয় বলেও জানান তিনি। 

এদিকে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণে সৎ এজেন্সিগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এক অংশগ্রহণকারী বলেন, “আমরা নির্ধারিত দামে ডিমান্ড লেটার কিনেছিলাম, কিন্তু পরে সিন্ডিকেট-সংযুক্ত অন্য একটি এজেন্সি একই ডিমান্ড লেটারের জন্য অনেক বেশি অর্থের প্রস্তাব দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।” 

মালয়েশিয়ার আরেকজন সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি জানান, “দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি নারী অভিবাসী শ্রমিক অনানুষ্ঠানিক ও অনিবন্ধিত খাতে কাজ করছেন। তিনি তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রেমিট্যান্সে তাদের ভূমিকা নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।” অভিবাসন নিয়োগের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি করা জবাবদিহিতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলেও জানান তিনি। 

প্রথম আলোর সাংবাদিক মহিউদ্দিন নিলয় বলেন, “করিডোরের দুই পাশেই সিন্ডিকেট সক্রিয়। আমাদের দূতাবাসকে কূটনৈতিকভাবে আরও সক্রিয় হতে হবে।” 

অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি এড্রিয়ান পেরেইরা বলেন, “মালয়েশিয়ায় দুর্নীতি অত্যন্ত ব্যাপক এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে কোনো সংস্কার বাস্তবায়ন হচ্ছে না।” 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পলিসি উপদেষ্টা জিয়া হাসান সংলাপের সুপারিশগুলোকে বাস্তব নীতিগত পদক্ষেপে রূপান্তর করা এবং প্রেরণ ও গন্তব্য দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এই করিডোরটি এখন একটি সংগঠিত অপরাধ কাঠামোতে পরিণত হয়েছে। আমাদের প্রকৃত সমস্যাগুলো স্বীকার করতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে।”  

সংলাপে রামরুর প্রোগ্রাম পরিচালক মেরিনা সুলতানা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “আমরা কেন সব সময় গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে নতজানু হবো?” অভিবাসন বিশেষজ্ঞ শীপা হাফিজা ও আসিফ মুনীর নিয়োগ ব্যবস্থায় প্রোথিত স্বার্থগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কাঠামোগত সংস্কার এবং ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনরায় একত্রীকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। 

সংলাপের সমাপনী বক্তব্যে ওকাপের চেয়ারপারসন ও সামাজিক গবেষক শাকিরুল ইসলাম সব অংশীজনকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে এই করিডোরের সংস্কার নিশ্চিত করা যায় এবং অভিবাসী শ্রমিকদের মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।  

প্রসঙ্গত, সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশ মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসন করিডোরের দীর্ঘদিনের কাঠামোগত ব্যর্থতাগুলো সমালোচনামূলকভাবে পর্যালোচনা করা, বিশেষ করে ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কার সত্ত্বেও কীভাবে নিয়োগ সিন্ডিকেটের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে এবং অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণ চলমান আছে তা বিশ্লেষণ করা। 

সংলাপে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, বিএমইটি, বোয়েসেল, পিকেবি, রিক্রুটিং এজেন্সি, জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, সিভিল সোসাইটি সংগঠন, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ, অভিবাসী শ্রমিক এবং মালয়েশিয়ার সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।