ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬

ফয়সল ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন: সিআইডি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অর্থপাচার সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থ -সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণ করে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের পর এই প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরীফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি । দ্রুত ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট পাঠানো, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনও গ্রেফতার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেফতার অভিযানের সময় উদ্ধার করা বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই পর্যালোচনা করে সিআইডি দেখতে পেয়েছে, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেক বইয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থের উল্লেখ রয়েছে। চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব চেকের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত ১২৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেন মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

এ কারণে অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুত বাজেয়াপ্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিআইডি। পাশাপাশি এসব অর্থের মূল উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার কাজও চলছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনও সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।

সিআইডি জানায়, অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মূলহোতাকে গ্রেফতার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির

ফয়সল ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন: সিআইডি

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী অর্থপাচার সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু হয়েছে।

রবিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম উঠে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার স্বার্থ -সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন বিশ্লেষণ করে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা ও বিশ্লেষণের পর এই প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায়।

তিনি জানান, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরীফ ওসমান হাদি মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই ঘটনাটির বিভিন্ন দিক নিয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে সিআইডি । দ্রুত ঘটনাস্থলে ক্রাইমসিন ইউনিট পাঠানো, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ব্যবহৃত গুলির খোসা উদ্ধার এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

হাদি হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান ওরফে রাহুল এখনও গ্রেফতার না হলেও মামলার আলামত গোপন ও তাকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে তার পরিবারের সদস্যসহ একাধিক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

গ্রেফতার অভিযানের সময় উদ্ধার করা বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই পর্যালোচনা করে সিআইডি দেখতে পেয়েছে, অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের একাধিক চেক বইয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থের উল্লেখ রয়েছে। চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন না হওয়া এসব চেকের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ২১৮ কোটি টাকা।

সিআইডির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অভিযুক্ত ও তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে সংঘটিত ১২৭ কোটি টাকার বেশি লেনদেন মানিলন্ডারিং, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অর্থায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে।

এ কারণে অভিযুক্ত ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৬৫ লাখ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে দ্রুত বাজেয়াপ্ত করতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে সিআইডি। পাশাপাশি এসব অর্থের মূল উৎস ও সরবরাহকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করার কাজও চলছে।

হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও অস্ত্র সরবরাহে কোনও সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখতে সিআইডির একাধিক টিম কাজ করছে।

সিআইডি জানায়, অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মূলহোতাকে গ্রেফতার এবং পুরো অপরাধচক্র উন্মোচনে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।