ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জেন জেড নেতৃত্বের তাল হারালে চলবে না

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে নতুন স্রোত জুলাই গণআন্দোলনের পর তৈরি হয়েছিল, তার মেরুদণ্ড ছিল তরুণ প্রজন্ম। তাদের রাজনৈতিক উত্থানের মধ্য থেকে জন্ম নিয়েছিল জেন জেড নেতৃত্বের রাজনীতিক দল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দল এনসিপি। প্রথম দিন থেকেই তারা নিজেকে পরিচয় করায় “নতুন রাজনীতির প্রতীক”, “স্বচ্ছতার অগ্রদূত” এবং “পুরনো রাজনৈতিক নোংরামির বিরুদ্ধে তরুণদের বিদ্রোহ” হিসেবে। দেশের মানুষের বিশেষত তরুণদের মধ্যে এই দাবি দ্রুতই বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় দেখা যাচ্ছে, যে দলটি নীতির কথা বলে জন্ম নিয়েছিল, আজ তারা পুরনো রাজনীতির সবচেয়ে সংক্রমিত রোগগুলোর সঙ্গে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

গত ছয় মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপি নিয়ে যে আলোচনাগুলো হয়েছে, তা আর গুজবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং নানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো বাস্তব হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে শোনা গেলো তারা জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এরপর প্রকাশ হলো, বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে তাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে, যেখানে আসন-বিন্যাস থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ মন্ত্রিপদ পর্যন্ত আগাম দরকষাকষি হয়েছে। এরই মধ্যে আবার খবর এসেছে, বিভিন্ন ভাঙা-বিভক্ত জেন জেড ছোট দলকে একত্র করে “যুব জোট” করার পরিকল্পনাও চলছে, যার উদ্দেশ্য নির্বাচনি আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা।

এধরনের বহুমুখী দরকষাকষি শুধু বিশৃঙ্খল কৌশল নয়, এটি নীতির অবক্ষয়ের সরাসরি সূচক। জন্মলগ্নে ঘোষণা ছিল আদর্শ কিন্তু আচরণ এখন ক্ষমতার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। শুধুমাত্র আসন পাওয়া নয়, নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার লোভে এনসিপির কিছু শীর্ষ নেতার আগ্রহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে স্পষ্ট। এ প্রজন্মের আলোয় আলোকিত একটি দলের জন্য এই আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ঠিক সেই পথ, যে পথে হাঁটতে হাঁটতেই গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে ১১টি তরুণ নেতৃত্বের দল জন্ম নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান BIGD এর সর্বশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে উল্লেখ আছে-নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর পতনের প্রধান তিন কারণ হলো: আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, অস্থির জোট রাজনীতি, এবং ক্ষমতার আগ্রহে নিজেদের পরিচয় হারানো। এনসিপির বর্তমান গতিপথ এসব কারণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাদের পথ সঠিক দিকে যাচ্ছে না। দেশের তিনটি স্বাধীন জরিপে দেখা গেছে-৬৪ শতাংশ তরুণ ভোটার মনে করছেন এনসিপি এবং অন্যান্য Gen Z দলগুলো জন্মের সময়কার নীতি ধরে রাখতে পারছে না। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, তরুণদের ৫৮ শতাংশ এই পরিবর্তনকে পুরনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন।

২০২৪ সালের গণআন্দোলন তরুণদের যে ত্যাগে তৈরি হয়েছিল, সেই আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উপর জনগণের প্রত্যাশা ছিল প্রচণ্ড। তারা ভেবেছিল, এই তরুণরা ক্ষমতার জন্য নয় বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য লড়বে। কিন্তু গত কয়েক মাসের বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ বলছে, জেন জেড নেতৃত্বের কিছু অংশ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ থেকে সরে যাচ্ছে। জোট রাজনীতির জন্য দরকষাকষি, স্বার্থভিত্তিক আলোচনা, ও ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার চেষ্টা শুধু নীতিহীনতার লক্ষণ নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা-যদি এখনই পথ পরিবর্তন না করা হয়, এই দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্ব দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে-যে দল আদর্শ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তার পতন সময়ের অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। নীতি ছাড়া রাজনীতি হয় পরিস্থিতিভিত্তিক; আর পরিস্থিতিভিত্তিক রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১৯৯০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে ১৪টি নতুন দল উত্থিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ১১টি প্রথম পাঁচ বছরেই রাজনৈতিক অচলাবস্থায় চলে যায়। কারণ তারা ক্ষমতার কাছে মাথা নোয়াতে গিয়ে জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছিল। আজ জেন জেড দলগুলো একই ভুল করলে ফল একই হবে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জেন জেড দলগুলোর পরিণতি কী হতে পারে? অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে- প্রথমত, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে যাবে। নেতৃত্ব ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনি চক্রে তরুণ ভোটারের ৩০–৪০ শতাংশ মুখ ফিরিয়ে নেবে। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তখন দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতায় পতিত হবে। দ্বিতীয়ত, পুরনো রাজনৈতিক বলয় পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। নতুন নেতৃত্বের ব্যর্থতা পুরনো খেলোয়াড়দের জন্যই সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সংস্কারের যে সূচনা ২০২৪-এর জুলাই গণআন্দোলনে সফলতায় হয়েছিল, তা বহু বছর পিছিয়ে যাবে এবং এই ব্যর্থতার দায় তখন শুধু দলের ওপর নয়-পুরো প্রজন্মের ওপর বর্তাবে।

এনসিপি এবং অন্যান্য জেন জেড দলকে তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি আদর্শিক পথে চলবে, নাকি ক্ষমতালোভের সেই পুরনো অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। তাদের বুঝতে হবে, ক্ষমতা আদর্শের বিকল্প নয়। আসন পাওয়া বা মন্ত্রিত্ব পাওয়া রাজনৈতিক সাফল্য নয়; প্রকৃত সাফল্য হলো মানুষের আস্থা অর্জন এবং তা ধরে রাখা।

এখনও পথ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এই প্রজন্মের হাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের যে চাবিকাঠি রয়েছে তা ক্ষমতার দরজা খোলার জন্য নয়; সংস্কারের দরজা খোলার জন্য। যদি জেন জেড নেতৃত্ব বুঝতে পারে যে, তাদের প্রধান কাজ নীতিকে ধরে রাখা, তাহলে তাদের সামনে দীর্ঘ পথ খোলা। আর যদি তারা ক্ষমতার লক্ষে হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের পরিচয় হারায়, তাহলে তারা শুধু ব্যর্থ হবে না বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্নকেই থামিয়ে দেবে।

তাই এখনই পরিষ্কারভাবে বলা যায়, এনসিপিসহ জেন জেড প্রজন্মের রাজনৈতিক দলের তাল হারানো মানে একটি জাতির ভবিষ্যৎ হারানো। আর তাদের সঠিক পথে ফিরে আসা মানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের সূচনা। ইতিহাস প্রজন্মকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয় না। আজ যে পথ তারা নেবে, বাংলাদেশের আগামীতে সেই পথেই চলবে। অতএব  জেন জেড প্রজন্মের রাজনৈতিক দলের তাল হারালে চলবে না।
 
লেখক: কথাসাহিত্যিক 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

জেন জেড নেতৃত্বের তাল হারালে চলবে না

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের যে নতুন স্রোত জুলাই গণআন্দোলনের পর তৈরি হয়েছিল, তার মেরুদণ্ড ছিল তরুণ প্রজন্ম। তাদের রাজনৈতিক উত্থানের মধ্য থেকে জন্ম নিয়েছিল জেন জেড নেতৃত্বের রাজনীতিক দল। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দল এনসিপি। প্রথম দিন থেকেই তারা নিজেকে পরিচয় করায় “নতুন রাজনীতির প্রতীক”, “স্বচ্ছতার অগ্রদূত” এবং “পুরনো রাজনৈতিক নোংরামির বিরুদ্ধে তরুণদের বিদ্রোহ” হিসেবে। দেশের মানুষের বিশেষত তরুণদের মধ্যে এই দাবি দ্রুতই বিশ্বাসের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় দেখা যাচ্ছে, যে দলটি নীতির কথা বলে জন্ম নিয়েছিল, আজ তারা পুরনো রাজনীতির সবচেয়ে সংক্রমিত রোগগুলোর সঙ্গে একাকার হয়ে যাচ্ছে।

গত ছয় মাসে রাজনৈতিক অঙ্গনে এনসিপি নিয়ে যে আলোচনাগুলো হয়েছে, তা আর গুজবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বরং নানা সূত্রে নিশ্চিত হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেগুলো বাস্তব হিসেবে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে শোনা গেলো তারা জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এরপর প্রকাশ হলো, বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে তাদের কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে, যেখানে আসন-বিন্যাস থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ মন্ত্রিপদ পর্যন্ত আগাম দরকষাকষি হয়েছে। এরই মধ্যে আবার খবর এসেছে, বিভিন্ন ভাঙা-বিভক্ত জেন জেড ছোট দলকে একত্র করে “যুব জোট” করার পরিকল্পনাও চলছে, যার উদ্দেশ্য নির্বাচনি আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা।

এধরনের বহুমুখী দরকষাকষি শুধু বিশৃঙ্খল কৌশল নয়, এটি নীতির অবক্ষয়ের সরাসরি সূচক। জন্মলগ্নে ঘোষণা ছিল আদর্শ কিন্তু আচরণ এখন ক্ষমতার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে। শুধুমাত্র আসন পাওয়া নয়, নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার লোভে এনসিপির কিছু শীর্ষ নেতার আগ্রহ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে স্পষ্ট। এ প্রজন্মের আলোয় আলোকিত একটি দলের জন্য এই আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটি ঠিক সেই পথ, যে পথে হাঁটতে হাঁটতেই গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে ১১টি তরুণ নেতৃত্বের দল জন্ম নিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেছে।

 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান BIGD এর সর্বশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে উল্লেখ আছে-নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর পতনের প্রধান তিন কারণ হলো: আদর্শ থেকে বিচ্যুতি, অস্থির জোট রাজনীতি, এবং ক্ষমতার আগ্রহে নিজেদের পরিচয় হারানো। এনসিপির বর্তমান গতিপথ এসব কারণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাদের পথ সঠিক দিকে যাচ্ছে না। দেশের তিনটি স্বাধীন জরিপে দেখা গেছে-৬৪ শতাংশ তরুণ ভোটার মনে করছেন এনসিপি এবং অন্যান্য Gen Z দলগুলো জন্মের সময়কার নীতি ধরে রাখতে পারছে না। আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, তরুণদের ৫৮ শতাংশ এই পরিবর্তনকে পুরনো রাজনীতির পুনরাবৃত্তি বলে মনে করছেন।

২০২৪ সালের গণআন্দোলন তরুণদের যে ত্যাগে তৈরি হয়েছিল, সেই আন্দোলন থেকে জন্ম নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উপর জনগণের প্রত্যাশা ছিল প্রচণ্ড। তারা ভেবেছিল, এই তরুণরা ক্ষমতার জন্য নয় বরং দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য লড়বে। কিন্তু গত কয়েক মাসের বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ বলছে, জেন জেড নেতৃত্বের কিছু অংশ সেই প্রত্যাশা পূরণের পথ থেকে সরে যাচ্ছে। জোট রাজনীতির জন্য দরকষাকষি, স্বার্থভিত্তিক আলোচনা, ও ক্ষমতার ভাগবাটোয়ারার চেষ্টা শুধু নীতিহীনতার লক্ষণ নয়, এটি একটি সতর্কবার্তা-যদি এখনই পথ পরিবর্তন না করা হয়, এই দলগুলোর রাজনৈতিক অস্তিত্ব দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না।

বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে-যে দল আদর্শ ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে, তার পতন সময়ের অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। নীতি ছাড়া রাজনীতি হয় পরিস্থিতিভিত্তিক; আর পরিস্থিতিভিত্তিক রাজনীতি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। ১৯৯০ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত যে ১৪টি নতুন দল উত্থিত হয়েছিল তাদের মধ্যে ১১টি প্রথম পাঁচ বছরেই রাজনৈতিক অচলাবস্থায় চলে যায়। কারণ তারা ক্ষমতার কাছে মাথা নোয়াতে গিয়ে জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছিল। আজ জেন জেড দলগুলো একই ভুল করলে ফল একই হবে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জেন জেড দলগুলোর পরিণতি কী হতে পারে? অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে- প্রথমত, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে রাজনৈতিক আস্থা তৈরি হয়েছিল, তা ভেঙে যাবে। নেতৃত্ব ব্যর্থ হলে পরবর্তী নির্বাচনি চক্রে তরুণ ভোটারের ৩০–৪০ শতাংশ মুখ ফিরিয়ে নেবে। দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তখন দীর্ঘস্থায়ী শূন্যতায় পতিত হবে। দ্বিতীয়ত, পুরনো রাজনৈতিক বলয় পুনরায় শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসবে। নতুন নেতৃত্বের ব্যর্থতা পুরনো খেলোয়াড়দের জন্যই সুযোগ সৃষ্টি করে দিবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সংস্কারের যে সূচনা ২০২৪-এর জুলাই গণআন্দোলনে সফলতায় হয়েছিল, তা বহু বছর পিছিয়ে যাবে এবং এই ব্যর্থতার দায় তখন শুধু দলের ওপর নয়-পুরো প্রজন্মের ওপর বর্তাবে।

এনসিপি এবং অন্যান্য জেন জেড দলকে তাই এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা কি আদর্শিক পথে চলবে, নাকি ক্ষমতালোভের সেই পুরনো অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। তাদের বুঝতে হবে, ক্ষমতা আদর্শের বিকল্প নয়। আসন পাওয়া বা মন্ত্রিত্ব পাওয়া রাজনৈতিক সাফল্য নয়; প্রকৃত সাফল্য হলো মানুষের আস্থা অর্জন এবং তা ধরে রাখা।

এখনও পথ সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। এই প্রজন্মের হাতে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের যে চাবিকাঠি রয়েছে তা ক্ষমতার দরজা খোলার জন্য নয়; সংস্কারের দরজা খোলার জন্য। যদি জেন জেড নেতৃত্ব বুঝতে পারে যে, তাদের প্রধান কাজ নীতিকে ধরে রাখা, তাহলে তাদের সামনে দীর্ঘ পথ খোলা। আর যদি তারা ক্ষমতার লক্ষে হাঁটতে হাঁটতে নিজেদের পরিচয় হারায়, তাহলে তারা শুধু ব্যর্থ হবে না বরং দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের স্বপ্নকেই থামিয়ে দেবে।

তাই এখনই পরিষ্কারভাবে বলা যায়, এনসিপিসহ জেন জেড প্রজন্মের রাজনৈতিক দলের তাল হারানো মানে একটি জাতির ভবিষ্যৎ হারানো। আর তাদের সঠিক পথে ফিরে আসা মানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের সূচনা। ইতিহাস প্রজন্মকে দ্বিতীয় সুযোগ দেয় না। আজ যে পথ তারা নেবে, বাংলাদেশের আগামীতে সেই পথেই চলবে। অতএব  জেন জেড প্রজন্মের রাজনৈতিক দলের তাল হারালে চলবে না।
 
লেখক: কথাসাহিত্যিক