রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী ‘সাহিত্য ও কুয়াশা’ উৎসব শেষ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন মাঠে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) এই উৎসবের আয়োজন করে ‘শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য সংসদ’।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল— বইমেলা, যেখানে দেশের ২০টিরও বেশি প্রকাশনী অংশ নেয়। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন দেশবরেণ্য কবি, কথাসাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই বইমেলা দেখে আমি আনন্দিত। আশা করি, এই ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের সৃজনশীল কাজে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।”
উৎসবের আলোচনায় জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শুধু ক্যাম্পাসেই নয়, পুরো দেশে সাহিত্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ায়। নতুন পাঠক তৈরির মাধ্যমে এটি বাংলা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিকীকরণে বড়ো ভূমিকা রাখবে।”
জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক ও বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন অনুবাদ সাহিত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “আমাদের মানসম্মত অনুবাদক প্রয়োজন, যাতে বাংলা সাহিত্য বিশ্ব-দরবারে আরও জোরালোভাবে পৌঁছাতে পারে।”
সমাপনী বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, “সরকার বাংলা সাহিত্যের আন্তর্জাতিকায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ লক্ষ্যে গবেষণার পরিধি বাড়াচ্ছে।”
উৎসবের অংশ হিসেবে বইমেলার পাশাপাশি ছিল শীতকালীন সামগ্রী মেলা, স্বরচিত কবিতা পাঠ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী বক্তব্যে শেকৃবি সাহিত্য সংসদের সভাপতি মেহেদী আকাশ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। মেলায় আগত দর্শনার্থীরা প্রতি বছর এমন নান্দনিক আয়োজন বজায় রাখার দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























