ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্রা শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। একইসঙ্গে, এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে দেশজুড়ে পরিকল্পিত সন্ত্রাসে জড়িতদের চিহ্নিত ও বিচার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওসমান হাদি। এর আগে গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয় নগরে তাকে গুলি করা হয়।
হাদির মৃত্যুর পর মধ্যরাত থেকেই সারাদেশে পরিকল্পিত সহিংসতা সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। সংগঠনটির দাবি, হাদি হত্যার ঘটনাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করে এসব সহিংসতা চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী মধ্যরাতে একটি চিহ্নিত প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী দেশের দুটি গণমাধ্যম—প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এ সময় সাংবাদিকদের ভবনের ভেতরে আটকে রাখার ঘটনাও ঘটে। ডেইলি স্টারের সাংবাদিকদের সুরক্ষা দিতে গেলে নিউ এইজ সম্পাদক নূরুল কবীরের ওপর হামলা করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ছায়ানট ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও তোলা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ময়মনসিংহের ভালুকায় পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট কারখানার শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ‘ধর্ম নিয়ে কটূক্তি’র অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার মরদেহে আগুন দিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির অভিযোগ, এসব ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের চরম নিষ্ক্রিয়তা ও গাফিলতি স্পষ্ট। সংগঠনটির দাবি, হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতরা দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং তদন্তে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হয়েছে। পাশাপাশি হাদী হত্যাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
এ কারণে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর শ্রমিক হত্যা, আদিবাসী হত্যা, বাউল ও মাজারে হামলা এবং মব সন্ত্রাসের ঘটনায় জড়িতদের বিচার না হওয়ায় দেশে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি আরও সক্রিয় হয়েছে। হাদী হত্যাকাণ্ড এবং সাম্প্রতিক সহিংসতা তারই ধারাবাহিকতা বলে দাবি করা হয়।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি হাদীর পরিকল্পিত হত্যাসহ সারাদেশে সংঘটিত ‘নব্য ফ্যাসিবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল’ সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষে সই করেন— আনু মুহাম্মদ, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, মারজিয়া প্রভা, ফেরদৌস আরা রুমী, আকরাম খান, রাফিকুজ্জামান ফরিদ, আফজাল হোসেন, ফারহানা শারমীন ইমু ও নওশাদ এহসানুল হক।
রিপোর্টারের নাম 

























