লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বেসরকারি টেলিভিশনের নির্বাচনি টকশোতে প্রার্থীকে প্রশ্ন করা নিয়ে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, স্টার নিউজের প্রতিবেদক ফারাবি হাফিজের উপস্থাপনায় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বিলুপ্ত বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ও দলীয় প্রার্থী নাজমুল হাসান পাটোয়ারী এবং ইসলামী আন্দোলনের জেলা কমিটির সহসভাপতি ও দলীয় প্রার্থী জাকির হোসেন পাটোয়ারীকে নিয়ে নির্বাচনি সংলাপের আয়োজন করা হয়। বৃহস্পতিবার রামগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে তাদের নিয়ে টকশো চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের এক শিক্ষার্থী ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেনকে বিগত দিনে জাতীয় পার্টির রাজনীতি সঙ্গে জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন করেন। উত্তরে জাকির বলেন, যদি জাতীয় পার্টির সদস্য ফরমে তার নামে থাকে তাহলে, তিনি আর রাজনীতি করবেন না। এর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের এক সমর্থক ক্ষিপ্ত হয়ে ওই শিক্ষার্থীর উদ্দেশে জুতা প্রদর্শন করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা শুরু হলে বিএনপির লোকজনও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকরাও। পরে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সমর্থকদের সঙ্গে হাতাহাতি, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচ জন আহত হন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
স্টার নিউজের লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি আন নাজমুস সাকিব বলেন, ‘তেজগাঁও কলেজের এক ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেনকে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। তাৎক্ষণিক ঘটনাটি সমাধান করা হয়। তবে বাইরে কিছু হয়েছে কিনা, তা জানা নেই।’
লক্ষ্মীপুর-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব শেখ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। প্রশ্নটি পরিকল্পিত ছিল। যে ঘটনা ঘটেছে, তা কাম্য নয়। এখানে আমাদের দলের কেউ যদি দায়ী থাকে, আমরা সে ব্যাপারে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো। পরবর্তীতে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও আমাদের কর্মীদের গায়ে হাত তোলা হবে কেন? পেশিশক্তি দেখানোর বহিঃপ্রকাশ নিয়ে আমরা শঙ্কিত।’
রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি ছেলে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে প্রশ্ন করায় চরমোনাইয়ের এক সমর্থক ক্ষিপ্ত হয়ে জুতা প্রদর্শন করেন। পরে আমরা তাকে শান্ত করার জন্য যাই। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে কেউই কারও ওপর হামলা করেনি। আহত বা অন্য কোনও ঘটনা ঘটেনি। যে ছেলে প্রশ্ন করেছে, তাকেও আমরা কেউ চিনি না।’
রামগঞ্জ উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমির নাজমুল হাসান ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী জাকির হোসেন পাটোয়ারী জানান, একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘সব পক্ষের কর্মীরা একটু উত্তেজিত হয়েছেন। কিছু চেয়ার ভাঙচুর করেছেন তারা। পরে সবাই শান্ত হয়ে গেছেন।’
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এক প্রার্থীকে প্রশ্ন করা ঘিরে উত্তেজনা দেখা দেয়; সামান্য হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়েছে। বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি। কেউ এখনও থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রিপোর্টারের নাম 






















