ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

থানায় ঘুমন্ত পুলিশ, সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৬ বার পড়া হয়েছে

থানার ভেতরে চেয়ারে বসে ঘুমাতে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে সেলফি তুলে নিজের ফেসবুকে এ পোস্ট দেন তিনি। ওই ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‌‘ঘুম ভালোবাসিরে এএএ…। জীবন যেমনই হোক, বিনোদন মিস করা যাবে না।’

গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতার নাম শোয়াইব উল ইসলাম ওরফে মহিম (২১)। তিনি পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল বশরের ছেলে এবং একই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি। শোয়াইব উল ইসলাম ওরফে মহিম নামেই তার ফেসবুক আইডি।

ছবিতে দেখা যায়, পটিয়া থানায় শোয়াইব উল ইসলামের পেছনে চেয়ারে বসে এক পুলিশ কনস্টেবল ঘুমাচ্ছেন। এ সময় সেলফি পোস্টের পাশাপাশি ভিডিও কলে আরেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথাও বলেন। 

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে থানায় হেফাজতে থাকা আসামির মোবাইল, ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা চলছে। তাকে গ্রেফতারের পর হাজতখানায় না রেখে কেন কর্তব্যরত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের কাগজীপাড়া এলাকা থেকে শোয়াইবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিজয় দিবস উপলক্ষে যুবলীগের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। রাতে থানায় আনার পর শোয়াইব নিজের ফেসবুকে শুরুতে একটি পোস্ট করেন। সেখানে লিখেছেন, ‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি পটিয়া থানায়। দেখা হবে আবারও, ফিরবো বীরের বেশে কোনও একদিন। জয় বাংলা।’

কিছুক্ষণ পর থানার ভেতরে থেকে হাতকড়া পরা একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এই দিন দিন নয়, দিন আরও আছে।’ 

অন্য ছবিতে তাকে তুহিন নামের আরেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। ওই ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করে সেই তুহিন। তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন লড়াইয়ে দখলদার বাহিনীর হাতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী মো. শোয়াইব-উল ইসলাম মহিমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা শোয়াইবকে বুধবার রাতে গ্রেফতারের পর থানায় আনা হয়। থানায় রেখে অভিযানকারী দল দ্রুত আরেকটি অভিযানে চলে যায়। এ সুযোগে নিজের কাছে লুকানো মোবাইল দিয়ে থানার ভেতর থেকে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে তার কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার হয়েছে। তবে প্রাথমিক তল্লাশিকালে এটি পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে শোয়াইবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই সময় দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিটিসিতে ৯৯ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ মার্চের মধ্যে

থানায় ঘুমন্ত পুলিশ, সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতার

আপডেট সময় : ০৮:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

থানার ভেতরে চেয়ারে বসে ঘুমাতে থাকা এক পুলিশ সদস্যকে নিয়ে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতা। পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় বুধবার রাতে সেলফি তুলে নিজের ফেসবুকে এ পোস্ট দেন তিনি। ওই ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‌‘ঘুম ভালোবাসিরে এএএ…। জীবন যেমনই হোক, বিনোদন মিস করা যাবে না।’

গ্রেফতার ছাত্রলীগ নেতার নাম শোয়াইব উল ইসলাম ওরফে মহিম (২১)। তিনি পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল বশরের ছেলে এবং একই ওয়ার্ডের ছাত্রলীগের সভাপতি। শোয়াইব উল ইসলাম ওরফে মহিম নামেই তার ফেসবুক আইডি।

ছবিতে দেখা যায়, পটিয়া থানায় শোয়াইব উল ইসলামের পেছনে চেয়ারে বসে এক পুলিশ কনস্টেবল ঘুমাচ্ছেন। এ সময় সেলফি পোস্টের পাশাপাশি ভিডিও কলে আরেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথাও বলেন। 

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে থানায় হেফাজতে থাকা আসামির মোবাইল, ফেসবুক ব্যবহার নিয়ে সমালোচনা চলছে। তাকে গ্রেফতারের পর হাজতখানায় না রেখে কেন কর্তব্যরত কর্মকর্তার কক্ষে রাখা হয় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাত ১টার দিকে পটিয়া পৌর সদরের কাগজীপাড়া এলাকা থেকে শোয়াইবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিজয় দিবস উপলক্ষে যুবলীগের একটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলা রয়েছে। রাতে থানায় আনার পর শোয়াইব নিজের ফেসবুকে শুরুতে একটি পোস্ট করেন। সেখানে লিখেছেন, ‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। আমি পটিয়া থানায়। দেখা হবে আবারও, ফিরবো বীরের বেশে কোনও একদিন। জয় বাংলা।’

কিছুক্ষণ পর থানার ভেতরে থেকে হাতকড়া পরা একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘এই দিন দিন নয়, দিন আরও আছে।’ 

অন্য ছবিতে তাকে তুহিন নামের আরেক ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। ওই ছবিও ফেসবুকে পোস্ট করে সেই তুহিন। তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আপসহীন লড়াইয়ে দখলদার বাহিনীর হাতে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার পটিয়া উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের কর্মী মো. শোয়াইব-উল ইসলাম মহিমের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, ‘ছাত্রলীগ নেতা শোয়াইবকে বুধবার রাতে গ্রেফতারের পর থানায় আনা হয়। থানায় রেখে অভিযানকারী দল দ্রুত আরেকটি অভিযানে চলে যায়। এ সুযোগে নিজের কাছে লুকানো মোবাইল দিয়ে থানার ভেতর থেকে সেলফি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পরে তার কাছ থেকে মোবাইলটি উদ্ধার হয়েছে। তবে প্রাথমিক তল্লাশিকালে এটি পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে শোয়াইবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার কারণে ওই সময় দায়িত্বরত পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’