ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে এক পোশাক কারখানা বন্ধে, আরেকটিতে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মৌচাক এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন কারখানার শ্রমিকরা। বিজিএমইএভুক্ত সোয়েটার ক্যাটাগরির ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত। একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসের পর বেলা ২টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আদমজীতে অবস্থিত শিল্প পুলিশ-৪-এর পরিদর্শক (গোয়েন্দা) মো. সেলিম বাদশা বলেন, ‌‘গত নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে দ্রুত বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে বেলা ২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খবর পেয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড সোয়েটার কারখানার পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসে আমাদের কাজ কম। এজন্য নভেম্বর মাসের বেতন বকেয়া আছে। ব্যাংকে ফান্ড রয়েছে। এই মাসে ফান্ডজনিত সমস্যার কারণে বেতন বকেয়া রয়েছে। আমি শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করবো।’

অপরদিকে নগরের টানবাজার এস এম মালেহ রোড এলাকায় অবস্থিত রাসেল গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে সকালে কারখানাটির সামনে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা বিক্ষোভও করেছেন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টার দিকে কারখানায় গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ টানানো ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা।

একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার সামনের আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি, অশোভন আচরণের অভিযোগে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গোলাম মোস্তফার অপসারণ, শ্রম আইন অনুযায়ী ছুটি প্রদান, অনিয়মতান্ত্রিক শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ ১৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘শ্রমিকরা জিএমের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিটিসিতে ৯৯ ভাষা প্রশিক্ষক নিয়োগ, আবেদন ১৮ মার্চের মধ্যে

নারায়ণগঞ্জে এক পোশাক কারখানা বন্ধে, আরেকটিতে বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড সোয়েটার কারখানার শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ, শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মৌচাক এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন কারখানার শ্রমিকরা। বিজিএমইএভুক্ত সোয়েটার ক্যাটাগরির ওই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত। একপর্যায়ে দুপুর ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসের পর বেলা ২টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আদমজীতে অবস্থিত শিল্প পুলিশ-৪-এর পরিদর্শক (গোয়েন্দা) মো. সেলিম বাদশা বলেন, ‌‘গত নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ গিয়ে দ্রুত বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিলে বেলা ২টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল বারিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘খবর পেয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলি। পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’

কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড সোয়েটার কারখানার পরিচালক মশিউর রহমান বলেন, ‘চলতি মাসে আমাদের কাজ কম। এজন্য নভেম্বর মাসের বেতন বকেয়া আছে। ব্যাংকে ফান্ড রয়েছে। এই মাসে ফান্ডজনিত সমস্যার কারণে বেতন বকেয়া রয়েছে। আমি শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করবো।’

অপরদিকে নগরের টানবাজার এস এম মালেহ রোড এলাকায় অবস্থিত রাসেল গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে সকালে কারখানাটির সামনে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। তারা বিক্ষোভও করেছেন। শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো সকাল ৮টার দিকে কারখানায় গিয়ে প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের নোটিশ টানানো ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা।

একপর্যায়ে শ্রমিকরা কারখানার সামনের আঞ্চলিক সড়কে অবস্থান নিলে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিকদের দাবি, অশোভন আচরণের অভিযোগে কারখানার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গোলাম মোস্তফার অপসারণ, শ্রম আইন অনুযায়ী ছুটি প্রদান, অনিয়মতান্ত্রিক শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ ১৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল হালিম বলেন, ‘শ্রমিকরা জিএমের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’