চট্টগ্রাম বন্দরে একের পর এক আমদানি নিষিদ্ধ পপি সিড, কসমেটিক্স, সিগারেট এবং ঘন চিনির মতো পণ্যের চালান জব্দ করে নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যে পড়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা। সাম্প্রতিক অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের ওপর দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনার পর চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি কাস্টমস হাউজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ।
গত কয়েক মাসে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ মিথ্যা ঘোষণায় আনা অন্তত ৫টি বড় চালান জব্দ করেছে। এর মধ্যে ১০ কোটি টাকা মূল্যের ২৫ মেট্রিক টন পপি সিড, ৩০ কোটি টাকার সিগারেট এবং বিপুল পরিমাণ ঘন চিনি ও কসমেটিক্স রয়েছে। কাস্টমসের গোয়েন্দা তথ্যে পাচারচক্রের তৎপরতা ব্যর্থ হওয়ায় নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছেন শুল্ক কর্মকর্তারা। বিশেষ করে, পপি সিড জব্দের ঘটনায় নেতৃত্বদানকারী উপ-কমিশনার আসাদুজ্জামান খানের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের উপ-কমিশনার মো. তারেক মাহমুদ জানান, কর্মকর্তারা যে কোনো প্রতিবন্ধকতায় সরকারের কাছ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রত্যাশা করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তারা আশাবাদী। সংশ্লিষ্টদের মতে, বছরে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব জোগান দেওয়া এই স্থাপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম এ ধরনের হামলার ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রাজস্ব আদায়ের গতি থেমে থাকবে না।
পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) বন্দর ও কাস্টমস এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে। সিএমপির উপ-কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় বন্দর সংশ্লিষ্ট সব এলাকায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কাস্টমসের তথ্যমতে, এই নিষিদ্ধ পণ্য আমদানির পেছনে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী চক্র জড়িত রয়েছে, যাদের তৎপরতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























