বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে । মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। দিল্লি, ইসলামাবাদ, টোকিও, মস্কো, লন্ডন , মালে, বেইজিং, বেনগাজী, রিয়াদ, সিউল, ইয়াঙ্গুন, রোম, জাকার্তা, কুয়েত, দোহা, মাস্কাট, কাঠমান্ডু, হ্যানয়, কায়রো, মানামা, ব্যাংককসহ অন্যান্য বাংলাদেশ দূতাবাস এবং স্থায়ী মিশনে বিজয় দিবস পালন করা হয়।
ভারতে দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, ত্রিপুরা ও গুয়াহাটির বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস উদ্যাপন করেছে। সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন রাখা হয়।
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যথাযথ মর্যাদা, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দমুখর পরিবেশে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন করেছে। এ উপলক্ষে হাইকমিশন কমপ্লেক্সে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করা হয়। হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরাও এ অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণ করেন। দূতাবাস প্রাঙ্গণ বিজয় দিবসের ব্যানার ও পোস্টার দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়। সকালে হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান উপস্থিত সবাইক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠান শুরু হয়।
সমাপনী বক্তব্যে হাইকমিশনার মো. ইকবাল হোসেন খান বলেন, “১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতির এক গৌরবোজ্জল দিন।” তিনি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সব বীর শহীদ, যুদ্ধাহতসহ সব বীর মুক্তিযোদ্ধা, সম্ভ্রমহারা মা-বোন, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনে আবদান রাখা সব সংগ্রামী যোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। এছাড়া, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহিদ ও আহত ছাত্র-জনতার প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।
দেশের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতও করা হয় পাকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাসে। এছাড়াও, বিকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোরসহ সবার অংশগ্রহণে ‘বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উদযাপন করেছে জাপানের টোকিওস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গনে দিনের কার্যক্রম শুরু হয় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। পতাকা উত্তোলন করেন জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
বিকালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়।
উপস্থিত সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ও আহতদের আশু আরোগ্য কামনা করেন। রাষ্ট্রদূত একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
লিবিয়াতে যথাযথ মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ–উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উদ্যাপনের সূচনায় রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মুহাম্মদ খায়রুল বাশার দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় পর্বে দূতাবাস প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রদূতের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। পরে বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বাণী পাঠ করা হয়। আলোচনা সভায় দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রবাসী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বিজয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় জীবনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আজ সকালে দূতাবাস চত্বরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন। এরপর দূতাবাসে স্থাপিত অস্থায়ী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রদূত। এসময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া রিয়াদের বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন এসময় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
ভিয়েনায় বাংলাদেশের দূতাবাস এবং স্থায়ী মিশন বাংলাদেশের জনগণের ঐতিহাসিক বিজয়কে স্মরণ করে তার প্রাঙ্গণে মহান বিজয় দিবসের ৫৪ তম বার্ষিকী উদযাপন করেছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় গর্বের চেতনা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
দূতাবাসের কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্যরা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মের জন্য আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একত্রিত হন। এই গৌরবময় মুহূর্তে দূতাবাস মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
কাঠমান্ডুর বাংলাদেশ দূতাবাস বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য বর্ণাঢ্য এবং উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে সার্ক সচিবালয়ের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত মো. গোলাম সারওয়ার, সার্ক সচিবালয়ে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নেপালের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থায় কর্মরত প্রবাসী নাগরিক; বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নেপাল অফিসের কর্মকর্তারা; নেপালে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য; নেপালের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও ব্যবসায়ীরা, এছাড়া কাঠমান্ডু সফররত একটি বাংলাদেশি নারী ফুটবল ক্লাবের (নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি) খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারাও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম। এ সময় দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পতাকা উত্তোলনের পর হাইকমিশনে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ইতালির রোমে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে দিবসটি উদযাপন করা হয়েছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজন ছিল এ দিনের মূল আকর্ষণ।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকালে হাইকমিশন প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে হাইকমিশনের সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 





























