পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে আব্দুর রহমান ভূইয়া (৫৫) নামে এক মশলা ব্যবসায়ীকে দোকানে ঢুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা মামলার আসামি এমামুল হাসান নয়নকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই সোহানুজ্জামান এতথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেফতারের পর নয়নকে কদমতলী থানার এক মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। পরে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সূত্রাপুর থানার ইন্সপেক্টর মহায়মেনুল ইসলাম।
নয়নের পক্ষে তার আইনজীবী ইকবাল হোসেন জামিনের প্রার্থণা করেন। শুনানি নিয়ে জামিন আবেদন নাকচ করে নয়নকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, নয়নের স্ত্রীর ভাই অয়ন গাঙ্গুলী পলাশ হাসনাবাদে হলুদ মরিচের ব্যবসা করেন। নয়ন সূত্রাপুর থানার ১৩ নম্বর শ্যামবাজার রহমত উল্লাহ বাণিজ্যালয়ে হলুদ মরিচের আড়তদারী ও হলুদ মরিচ ভাঙানোর মিলের ব্যবসা করেন। তিনি নয়নের কাছ থেকে হলুদ, মরিচ নিয়ে হাসনাবাদে দোকানে দোকানে পাইকারী বিক্রয় করেন। গত ১১ ডিসেম্বর সকাল ৯ টা থেকে সাড়ে ৯ টার মধ্যে নয়ন অয়নের ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন দিয়ে শ্যামবাজারে যাওয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, ফ্রেস হয়ে যাচ্ছে। সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১০ টার মধ্যে সূত্রাপুর থানার শ্যামবাজার এলাকার মাওলাবক্স চক্ষু হাসপাতালের সামনে যান অয়ন। সেখানে নয়ন ও রুবেল নামে দুইজনকে দেখতে পান। অয়ন যখন মাওলা বক্সের সামনে যান, তখন তার মাথায় ক্যাপ, পড়নে জিন্সের প্যান্ট ও পায়ে চকলেট কালারের চামড়ার স্যান্ডেল পড়া ছিল। সেখানে বসে তারা চা খান। ওই নয়ন বলেন, আব্দুর রহমান অনেক ঝামেলা করতেছে, তাকে সাইজ করতে হবে। বেলা ১২টার দিকে আব্দুর রহমান তার বাড়ি থেকে বের হয়ে শ্যামবাজার দোকানে রওনা হলে নয়ন অয়নকে বলে দ্রুত সামনে চলো। তখন অয়ন ও রুবেলসহ তিন জন রূপলাল দাস লেনের দিকে এগোতে থাকেন। এ সময় আব্দুর রহমান অয়নকে ক্রস করে সামনে এগোতে থাকেন। একপর্যায়ে আব্দুর রহমান নয়নের পাশাপাশি গেলে অয়ন ২ রাউন্ড গুলির শব্দ পান। ওই সময় নয়ন সামনের দিকে দৌঁড় দেন। অয়ন এবং রুবেল পেছনের দিকে দ্রুত হাঁটতে থাকেন।
পরবর্তী সময়ে রুবেল নয়নকে ফোন দিয়ে খবর জানতে চান। তখন নয়ন জানান, তোমরা পোস্তগোলা গিয়ে অপেক্ষা করো আমি আসতেছি। তারপর অয়ন , নয়ন, রুবেলসহ সবাই পোস্তগোলা গিয়ে একত্রিত হন। তখন রুবেল বাসার দিকে চলে যান। অয়ন এবং নয়ন সারাদিন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরাঘুরির পর রাত ১০ টার দিকে কল্যাণপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে র্যাব সেখান থেকে তাদের গ্রেফতার করে। আব্দুর রহমানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ছেলে শাকিল আহম্মেদ শনিবার সূত্রাপুর থানায় নয়নের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আব্দুর রহমান মাছ বাজার সমিতির সভাপতিও ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 



















