ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জবিতে পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে বাধা, রাতভর উত্তেজনা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে ‘ঘৃণার প্রতীক’ হিসেবে পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা দেখা দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। এ সময় একজন সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সড়কে পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্য একদল শিক্ষার্থী তাদের বাধা দেন। পরে শাখা ছাত্রদলের সহায়তায় ওই সড়কে ও প্রশাসনিক ভবনের ফটকে দুটি পতাকা আঁকা হয়, যাতে দেওয়া হয় জুতার ছাপ। এছাড়াও দুপুরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সড়কে আরেকদল শিক্ষার্থী ভারত ও পাকিস্তানের আরও দুইটি পতাকা অঙ্কন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে প্রধান ফটকের সড়কে একদল শিক্ষার্থী ওই পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পতাকা আঁকার পরামর্শ দেন। তখন শিক্ষার্থীদের তরফে বলা হয়, এর আগে ইসরায়েলের পতাকা আঁকা হলেও তখন অনুমতির প্রয়োজন হয়নি, এখন অনুমতি লাগবে কেন?

পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্য একদল শিক্ষার্থী বাধা দেনপাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্য একদল শিক্ষার্থী বাধা দেন

এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রক্টর। এরপর আস-সুন্নাহ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বাসে ক্যাম্পাস থেকে হলে যাচ্ছিলেন। তখন পতাকা অঙ্কনকারীরা বাসটিকে বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় ফটক ব্যবহার করতে বলেন।

তখন বাস থেকে নেমে আস-সুন্নাহ আবাসিক হলের একজন বলেন, পাকিস্তানের পতাকা আঁকা ঠিক হচ্ছে না ভাই, তাদের সঙ্গে আমাদের এখন মিউচুয়াল হচ্ছে…।

এরপর বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের একাংশ নেমে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় তারা রঙের কৌটা ঢেলে পতাকা মুছে দেন।

এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের সময় কালের কণ্ঠর সাংবাদিক মিনহাজুল ইসলামকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। লাইভ চলা অবস্থায় ওই সংবাদকর্মী ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রক্টরের কাছে গিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত বহিষ্কারের দাবি জানান।

মিনহাজুল বলেন, অনুমতি না নেওয়ার অজুহাতে যদি পতাকা আঁকতে আসা শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর অফিসে ডাকা যায়, তবে আজ বিজয়ের দিনে যারা পাকিস্তানপ্রেম দেখিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে, তাদেরও এখনই বহিষ্কার করতে হবে।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তার গাড়ির সামনে বসে পড়েন। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে তিনি প্রশাসনিক ভবনে নিজের দফতরে চলে যান।

এদিকে আস-সুন্নাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক দিয়ে বাস চালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে ফের ‘ঘৃণার’ পতাকা আঁকা হয়।

পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা দেখা দেয় পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা দেখা দেয়

এরপর রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে ঝটিকা মিছিল বের করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। তারা আঁকিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ‘রাজাকারের বাচ্চারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘পিন্ডির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’, ‘রাজাকারি আর করিস না, পিঠের চামড়া রাখবো না’সহ নানা স্লোগান দেন।

এরপর তারা উপাচার্য ও প্রক্টরকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে পাকিস্তানের আরেকটি পতাকা অঙ্কন করে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি শ্রেণি, পেশা ও মতের মানুষকে ধারণ করেই রাজনীতি করতে হবে। আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতীকী ঘৃণাস্তম্ভের মাধ্যমে একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের দালালরা হামলা চালিয়েছে, সাংবাদিকদেরও ছাড় দেয়নি। প্রশাসনকে এর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।’

এদিকে পতাকা অঙ্কনে বাধার প্রতিবাদে এবং রাজাকার ঘৃণা প্রদর্শনে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি দেওয়া হয়। তবে দুপুর পর্যন্ত এ ধরনের কোনও কর্মসূচি দেখা যায়নি। কারা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তাও জানা যায়নি। তবে দুপুরে ক্যাম্পাসের একটি ডাস্টবিনে চারটি প্রিন্ট করা ছবি সাটিয়ে রাজাকার-আলবদর লিখে দেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পাল্টা হামলা: পাকিস্তানের সেনা ক্যাম্পে আঘাত

জবিতে পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে বাধা, রাতভর উত্তেজনা

আপডেট সময় : ০৪:৩৭:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে ‘ঘৃণার প্রতীক’ হিসেবে পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা দেখা দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি)। এ সময় একজন সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনাও ঘটে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সড়কে পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্য একদল শিক্ষার্থী তাদের বাধা দেন। পরে শাখা ছাত্রদলের সহায়তায় ওই সড়কে ও প্রশাসনিক ভবনের ফটকে দুটি পতাকা আঁকা হয়, যাতে দেওয়া হয় জুতার ছাপ। এছাড়াও দুপুরে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সড়কে আরেকদল শিক্ষার্থী ভারত ও পাকিস্তানের আরও দুইটি পতাকা অঙ্কন করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে প্রধান ফটকের সড়কে একদল শিক্ষার্থী ওই পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পতাকা আঁকার পরামর্শ দেন। তখন শিক্ষার্থীদের তরফে বলা হয়, এর আগে ইসরায়েলের পতাকা আঁকা হলেও তখন অনুমতির প্রয়োজন হয়নি, এখন অনুমতি লাগবে কেন?

পাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্য একদল শিক্ষার্থী বাধা দেনপাকিস্তানের পতাকা আঁকতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও অন্য একদল শিক্ষার্থী বাধা দেন

এ নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন প্রক্টর। এরপর আস-সুন্নাহ আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা বাসে ক্যাম্পাস থেকে হলে যাচ্ছিলেন। তখন পতাকা অঙ্কনকারীরা বাসটিকে বিকল্প হিসেবে দ্বিতীয় ফটক ব্যবহার করতে বলেন।

তখন বাস থেকে নেমে আস-সুন্নাহ আবাসিক হলের একজন বলেন, পাকিস্তানের পতাকা আঁকা ঠিক হচ্ছে না ভাই, তাদের সঙ্গে আমাদের এখন মিউচুয়াল হচ্ছে…।

এরপর বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের একাংশ নেমে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। এ সময় তারা রঙের কৌটা ঢেলে পতাকা মুছে দেন।

এ ঘটনা সরাসরি সম্প্রচারের সময় কালের কণ্ঠর সাংবাদিক মিনহাজুল ইসলামকে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। লাইভ চলা অবস্থায় ওই সংবাদকর্মী ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রক্টরের কাছে গিয়ে হামলাকারীদের দ্রুত বহিষ্কারের দাবি জানান।

মিনহাজুল বলেন, অনুমতি না নেওয়ার অজুহাতে যদি পতাকা আঁকতে আসা শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টর অফিসে ডাকা যায়, তবে আজ বিজয়ের দিনে যারা পাকিস্তানপ্রেম দেখিয়ে আমাদের ওপর হামলা করেছে, তাদেরও এখনই বহিষ্কার করতে হবে।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা তার গাড়ির সামনে বসে পড়েন। প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষার পর বাধ্য হয়ে তিনি প্রশাসনিক ভবনে নিজের দফতরে চলে যান।

এদিকে আস-সুন্নাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটক দিয়ে বাস চালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে ফের ‘ঘৃণার’ পতাকা আঁকা হয়।

পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা দেখা দেয় পাকিস্তানের পতাকা আঁকাকে কেন্দ্র করে রাতভর উত্তেজনা দেখা দেয়

এরপর রাত দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে ঝটিকা মিছিল বের করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। তারা আঁকিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ‘রাজাকারের বাচ্চারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘পিন্ডির দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘রাজাকার আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’, ‘রাজাকারি আর করিস না, পিঠের চামড়া রাখবো না’সহ নানা স্লোগান দেন।

এরপর তারা উপাচার্য ও প্রক্টরকে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে প্রশাসনিক ভবনের ফটকে পাকিস্তানের আরেকটি পতাকা অঙ্কন করে।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফিন বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ। এ দেশের প্রতিটি শ্রেণি, পেশা ও মতের মানুষকে ধারণ করেই রাজনীতি করতে হবে। আজ আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রতীকী ঘৃণাস্তম্ভের মাধ্যমে একাত্তরের ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। সেখানে পাকিস্তানের দালালরা হামলা চালিয়েছে, সাংবাদিকদেরও ছাড় দেয়নি। প্রশাসনকে এর সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।’

এদিকে পতাকা অঙ্কনে বাধার প্রতিবাদে এবং রাজাকার ঘৃণা প্রদর্শনে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি দেওয়া হয়। তবে দুপুর পর্যন্ত এ ধরনের কোনও কর্মসূচি দেখা যায়নি। কারা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে তাও জানা যায়নি। তবে দুপুরে ক্যাম্পাসের একটি ডাস্টবিনে চারটি প্রিন্ট করা ছবি সাটিয়ে রাজাকার-আলবদর লিখে দেওয়া হয়েছে।