ঢাকা ১০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কম বেতনের প্রলোভনে চীনে নারী পাচার: চক্রের হোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

কম বয়সী নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশ থেকে চীনে পাচার করত একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র। চীনে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের ওপর চালানো হতো অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনই একটি চক্রের মূল হোতা আব্বাস মোল্লাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪।

বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আব্বাস মোল্লা (৩৬), ফরিদপুরের জাহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩১), ঢাকার আদাবরের মিনার সরদার (৩০) এবং গোপালগঞ্জের মোহাম্মদ রিপন শেখ (২৮)। তাঁদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগে মামলা রয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, “আমাদের কাছে এমন এক ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী একটি অভিযোগ দেন যে, তিনি ও তাঁর খালাতো বোন এই নারী পাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে চীনে বন্দি ছিলেন। সেখানে তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা তদন্ত শুরু করি এবং একপর্যায়ে চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।”

তিনি জানান, ওই ভুক্তভোগী নারী পিরোজপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাবু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে ওই নারী বাবুর কাছে ঢাকায় চাকরির সন্ধান চান। বাবু তখন তাঁকে চীনে লোভনীয় বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন। রাজি হওয়ায় বাবু ওই নারী ও তাঁর খালাতো বোনকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর তাঁদের চক্রের মূল হোতা আব্বাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আব্বাস তাঁদের চীনে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন।

এমন লোভনীয় আশ্বাসে দুই বোন সিলভি নামে এক মেয়ের মাধ্যমে চীনে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের পৃথক দুটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে মামলার বাদী অসুস্থ হয়ে পড়লে, চক্রটি বাধ্য হয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশে ফিরে এসে ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন এবং একই সঙ্গে র‍্যাবের সহায়তা চান। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা গত প্রায় আট বছরের বেশি সময় ধরে চীনে চাকরি দেওয়ার নাম করে নারী পাচারের কাজ করে আসছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে র‍্যাব জানিয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: এনজিও ঋণের জট নিয়ে চাঞ্চল্য

কম বেতনের প্রলোভনে চীনে নারী পাচার: চক্রের হোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৪:০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

কম বয়সী নারীদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশ থেকে চীনে পাচার করত একটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র। চীনে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের ওপর চালানো হতো অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। এমনই একটি চক্রের মূল হোতা আব্বাস মোল্লাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪।

বুধবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব আলম এই তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— আব্বাস মোল্লা (৩৬), ফরিদপুরের জাহিদুল ইসলাম ওরফে বাবু (৩১), ঢাকার আদাবরের মিনার সরদার (৩০) এবং গোপালগঞ্জের মোহাম্মদ রিপন শেখ (২৮)। তাঁদের বিরুদ্ধে মানব পাচারের অভিযোগে মামলা রয়েছে।

র‍্যাব কর্মকর্তা মো. মাহবুব আলম বলেন, “আমাদের কাছে এমন এক ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী একটি অভিযোগ দেন যে, তিনি ও তাঁর খালাতো বোন এই নারী পাচার চক্রের খপ্পরে পড়ে চীনে বন্দি ছিলেন। সেখানে তাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই আমরা তদন্ত শুরু করি এবং একপর্যায়ে চক্রের হোতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।”

তিনি জানান, ওই ভুক্তভোগী নারী পিরোজপুরে একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাবু নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে ওই নারী বাবুর কাছে ঢাকায় চাকরির সন্ধান চান। বাবু তখন তাঁকে চীনে লোভনীয় বেতনে চাকরির প্রস্তাব দেন। রাজি হওয়ায় বাবু ওই নারী ও তাঁর খালাতো বোনকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। এরপর তাঁদের চক্রের মূল হোতা আব্বাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। আব্বাস তাঁদের চীনে প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন।

এমন লোভনীয় আশ্বাসে দুই বোন সিলভি নামে এক মেয়ের মাধ্যমে চীনে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের পৃথক দুটি বাড়িতে আটকে রাখা হয় এবং পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে মামলার বাদী অসুস্থ হয়ে পড়লে, চক্রটি বাধ্য হয়ে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও জানান, দেশে ফিরে এসে ভুক্তভোগী থানায় মামলা করেন এবং একই সঙ্গে র‍্যাবের সহায়তা চান। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা গত প্রায় আট বছরের বেশি সময় ধরে চীনে চাকরি দেওয়ার নাম করে নারী পাচারের কাজ করে আসছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে র‍্যাব জানিয়েছে।