বিজয়ের ৫৫ বছরে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। স্বাধীন পতাকা, নিজ ভূখণ্ডে চলার স্বাধীনতা থাকলেও নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্ন আজও অমীমাংসিত। সরকার আসে, সরকার যায় কিন্তু রাষ্ট্র কি সত্যিই গণমানুষের ও গণঅধিকারের হয়ে উঠেছে? গণতন্ত্র ও সুশাসনের আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কাছে বারবারই অধরা থেকে গেছে। তাই তো আজও ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত হয় সবুজ বাংলার জমিন।
একাত্তরে রক্তের বিনিময়ে ভূখণ্ড নিশ্চিত হলেও স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়েও প্রশ্ন থেকে যায় শাসকেরা কতটুকু পূরণ করতে পেরেছে নাগরিকের অধিকার? সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের দেখা গেলেও জয়ী হওয়ার পর তাদের খোঁজ মেলে না। তাদের মতে, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো জবাবদিহিতার অভাব।
বিশ্লেষকদের মতামত
- সংঘাতময় রাজনৈতিক সংস্কৃতি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম মতানৈক্যের কারণে দেশে একটি সাংঘর্ষিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। ক্ষমতায় যাওয়া দল নিজেদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়, যার ফল ভোগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয় সাধারণ জনগণকে।
- ব্যক্তি স্বার্থের প্রাধান্য: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, জাতীয় স্বার্থের জায়গা বাদ দিয়ে যখন রাজনৈতিক দলগুলো ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দেয়, তখনই সুশাসন ভেঙে পড়ে।
- সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা: বিশ্লেষকদের মতে, যুগে যুগে সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কেউই তা গুরুত্ব দেয়নি। বরং দলীয়করণের আঘাতে বিচার বিভাগ, সংসদ, নির্বাহী বিভাগ, দুদক ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই দৃঢ়ভাবে দাঁড়াতে পারেনি।
সংকট উত্তরণের সুযোগ
বিশ্লেষকদের মতে, ’২৪-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংকট উত্তরণের সুযোগ এখনো রয়েছে।
- অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, জুলাই সনদে গণতান্ত্রিক উত্তরণে জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত আছে। সেগুলো কার্যকর করা গেলে পরিবর্তনের আশা করা যায়।
- অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে প্রয়োজন একটি ‘কোয়ালিটি’ রাজনৈতিক দল—যারা আধুনিক বিশ্বকে বুঝবে, যাদের দৃষ্টি হবে বৈশ্বিক, কিন্তু কাজ করবে স্থানীয় বাস্তবতায়।
৫৪ পেরিয়ে ৫৫তম বিজয়ে বাংলাদেশ। সমকালীন ইতিহাসের পথ ধরে যে নতুন জয় বাংলার দুয়ারে এসেছে, তা এখনো আঁকতে পারেনি কাঙ্ক্ষিত ভয়হীন রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি। তাহলে আর কত আত্মত্যাগের গল্প লিখলে মিলবে সত্যিকারের বিজয়ের স্বাদ? এই প্রশ্নই আজ ধ্বনিত হচ্ছে নাগরিক মনে।
রিপোর্টারের নাম 



















