ঢাকা ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিভেদের রাজনীতি নয়, আমরা শান্তির রাষ্ট্র চাই’: মির্জা ফখরুল

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা আর বিভেদের রাজনীতি চান না। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের মধ্যে আমরা কোনো রকম ভেদাভেদ তৈরি করতে চাই না। আমরা হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে একটি শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ছাত্র-যুবকেরা যে কারণে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে তিনি বোঝান, “আপনারা যা বলবেন সেটাই। অর্থাৎ আপনারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। নির্বাচিত প্রার্থী পার্লামেন্টে গিয়ে জনগণের কথা বলবে, আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরবে।”

বিএনপি মহাসচিব নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কিছু পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় দুটি পার্লামেন্ট থাকবে—একটি নিম্নকক্ষ এবং একটি উচ্চকক্ষ। নিম্নকক্ষে প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যাবেন। অন্যদিকে, উচ্চকক্ষে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিনিধিরা যাবেন। এছাড়াও, হিন্দু সম্প্রদায়, আলেম সমাজ, এবং বিদ্বান-পণ্ডিতদের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মানুষ সেখানে মনোনীত হবেন।

মির্জা ফখরুলের মতে, এমন একটি পার্লামেন্ট তৈরি হবে যা সত্যিকারের অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বর হবে এবং কোনো একক দলের কর্তৃত্ব সেখানে থাকবে না। তাঁর বিশ্বাস, এর মধ্য দিয়ে “গত পনেরো বছর ধরে যে দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেই পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্তি পাব।”

তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তা দেশকে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নতুন করে দেশটাকে সাজাতে চাই। অনেক রকম মত থাকবে, অনেক মত একমত নাও হতে পারে। সেই মতগুলোকে পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য আনতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে মানুষ একটি সিদ্ধান্ত পাবে এবং দেশ সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বারবার বলছি, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এখানে সকল ধর্মের মানুষ থাকবে। যারা হিন্দু আছেন, তারা তাদের ধর্ম পালন করবেন, তাদের মন্দির সুরক্ষিত থাকতে হবে। যারা ইসলাম ধর্ম পালন করেন, তাদের মসজিদ সুরক্ষিত থাকতে হবে। একইসঙ্গে, মানুষের কথা বলার সুযোগ সুরক্ষিত থাকতে হবে। এই যে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে একসঙ্গে থাকা—এটাই হলো আমাদের বাংলাদেশ।”

মির্জা ফখরুল স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁদের নেতা শহিদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন এবং তাঁরা নয় মাস দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। “আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার যে অস্তিত্ব, তা ভুলে যাওয়ার কোনো কারণ নেই,” তিনি বলেন। ঠিক একইভাবে, “চব্বিশের ৫ আগস্ট আমরা ভুলব না। কারণ এই দিন আমাদের ছেলেরা রক্ত দিয়েছে। আমাদের ওপর যে একটা দানব এসে চেপে বসেছিল, সেটাকে সরিয়ে দিয়েছে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

বিভেদের রাজনীতি নয়, আমরা শান্তির রাষ্ট্র চাই’: মির্জা ফখরুল

আপডেট সময় : ০৩:৫২:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁরা আর বিভেদের রাজনীতি চান না। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের মধ্যে আমরা কোনো রকম ভেদাভেদ তৈরি করতে চাই না। আমরা হিংসার রাজনীতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে একটি শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

বুধবার (১৫ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ছাত্র-যুবকেরা যে কারণে জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মূল লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বলতে তিনি বোঝান, “আপনারা যা বলবেন সেটাই। অর্থাৎ আপনারা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। নির্বাচিত প্রার্থী পার্লামেন্টে গিয়ে জনগণের কথা বলবে, আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরবে।”

বিএনপি মহাসচিব নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কিছু পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, নতুন ব্যবস্থায় দুটি পার্লামেন্ট থাকবে—একটি নিম্নকক্ষ এবং একটি উচ্চকক্ষ। নিম্নকক্ষে প্রার্থীরা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে যাবেন। অন্যদিকে, উচ্চকক্ষে পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিনিধিরা যাবেন। এছাড়াও, হিন্দু সম্প্রদায়, আলেম সমাজ, এবং বিদ্বান-পণ্ডিতদের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের মানুষ সেখানে মনোনীত হবেন।

মির্জা ফখরুলের মতে, এমন একটি পার্লামেন্ট তৈরি হবে যা সত্যিকারের অর্থে জনগণের কণ্ঠস্বর হবে এবং কোনো একক দলের কর্তৃত্ব সেখানে থাকবে না। তাঁর বিশ্বাস, এর মধ্য দিয়ে “গত পনেরো বছর ধরে যে দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদ চলেছে, সেই পরিস্থিতি থেকে আমরা মুক্তি পাব।”

তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তা দেশকে নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নতুন করে দেশটাকে সাজাতে চাই। অনেক রকম মত থাকবে, অনেক মত একমত নাও হতে পারে। সেই মতগুলোকে পার্লামেন্টে আলোচনার জন্য আনতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে মানুষ একটি সিদ্ধান্ত পাবে এবং দেশ সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা বারবার বলছি, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এখানে সকল ধর্মের মানুষ থাকবে। যারা হিন্দু আছেন, তারা তাদের ধর্ম পালন করবেন, তাদের মন্দির সুরক্ষিত থাকতে হবে। যারা ইসলাম ধর্ম পালন করেন, তাদের মসজিদ সুরক্ষিত থাকতে হবে। একইসঙ্গে, মানুষের কথা বলার সুযোগ সুরক্ষিত থাকতে হবে। এই যে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই মিলে একসঙ্গে থাকা—এটাই হলো আমাদের বাংলাদেশ।”

মির্জা ফখরুল স্মরণ করিয়ে দেন, তাঁদের নেতা শহিদ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন এবং তাঁরা নয় মাস দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। “আমাদের সবার আকাঙ্ক্ষা ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার যে অস্তিত্ব, তা ভুলে যাওয়ার কোনো কারণ নেই,” তিনি বলেন। ঠিক একইভাবে, “চব্বিশের ৫ আগস্ট আমরা ভুলব না। কারণ এই দিন আমাদের ছেলেরা রক্ত দিয়েছে। আমাদের ওপর যে একটা দানব এসে চেপে বসেছিল, সেটাকে সরিয়ে দিয়েছে।”