মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে বিকৃত বয়ানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে চার দিনব্যাপী একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। ‘রক্তের দলিল’ শীর্ষক এই প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণহত্যার প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এটি চলবে আগামী মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আয়োজন করা হবে ‘মুক্তির গান’ শীর্ষক একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আয়োজকদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো মুক্তিযুদ্ধকে আওয়ামী লীগের ‘একচেটিয়া’ বয়ান থেকে উদ্ধার করা এবং জুলাই অভ্যুত্থানের পর ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি’ যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যুদ্ধের গুরুত্ব খাটো করার জন্য, তার জবাব দেওয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এই প্রদর্শনী হচ্ছে/ বাংলা ট্রিবিউন
তারা জানান, গণহত্যা ও দালালদের ভূমিকা নিয়ে গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ‘জনযুদ্ধের চরিত্র’ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেঘমল্লার বসু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, শাসনামলে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে একচেটিয়াভাবে উপস্থাপন করেছে। ফলে মুক্তিযুদ্ধকে জনগণের যুদ্ধ হিসেবে যে চরিত্র ছিল, তা আড়াল হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো যুদ্ধের তাৎপর্য খাটো করার চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই বুদ্ধিবৃত্তিক বিকৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতেই মূলত আমরা এই আয়োজন করেছি। গবেষণাভিত্তিক কাজের মাধ্যমে আমরা জনগণের যুদ্ধের বাস্তব ইতিহাস তুলে ধরেছি। একইসঙ্গে গণহত্যার চিত্র এবং রাজাকারদের কীভাবে গণহত্যার পক্ষে সম্মতি তৈরি করেছিল, তাও সামনে এনেছি।’
এই আয়োজন প্রসঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মইন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি সংগঠিত গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে, যে কারণে এবারের বিজয় মাস বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।’
প্রদর্শনীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণহত্যার প্রামাণ্য দলিল তুলে ধরা হচ্ছে/ বাংলা ট্রিবিউন
তিনি বলেন, ‘আমরা এই সময়টাকে একদিকে সংকট, অন্যদিকে সম্ভাবনার সময় হিসেবে দেখছি। স্বৈরতন্ত্রমুক্ত বাংলাদেশে এবারের বিজয় মাসে আমাদের লক্ষ্য হলো— আওয়ামী লীগের দখল করা মুক্তিযুদ্ধের বয়ান থেকে মুক্তিযুদ্ধকে উদ্ধার করা। জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীর মিথ্যাচারের উপযুক্ত জবাব দেওয়া এবং জনগণের যুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সামনে আনা।’
ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের সাধারণ সম্পাদক শিমুল কুম্ভকার জানান, প্রদর্শনীর শুরু হয়েছে ‘রাজাকারের আমলনামা’ অংশ দিয়ে, যেখানে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী বয়ান ছড়ানো ‘ডেইলি সংগ্রাম’ পত্রিকার বিভিন্ন প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীর শেষ অংশ ‘বিজয়গাঁথা’, যেখানে মুক্তিযুদ্ধে জাতির বিজয়ের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনীর অন্যান্য অংশের মধ্যে রয়েছে— ‘অপূর্ণ গণযুদ্ধ’, যেখানে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও জনগণের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে; ‘যারা ছিলেন, যারা আছেন’, যেখানে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর শহীদ হওয়া বামপন্থী চিন্তাবিদদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে; এছাড়া ‘গণহত্যার সাক্ষ্য’ শীর্ষক অংশে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা এবং মুক্তিযুদ্ধকালে নারীদের সংগ্রাম ও নির্যাতনের চিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























