ঢাকা ০৯:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

প্রান্তিক নারীর অধিকার নিশ্চিত না হলে জলবায়ু ন্যায্যতা অর্জন সম্ভব নয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু বিপর্যয়ে ভূমি, বন ও পানি সম্পদে প্রান্তিক নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে কখনোই প্রকৃত ন্যায্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়। পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোই প্রান্তিক নারীর অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) এএলআরডি, বেলা ও পানি অধিকার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের প্রথম ওয়ার্কিং অধিবেশনে প্রান্তিক নারীর ন্যায্য অধিকার বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারী, বিশেষত গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের ওপর বহুগুণ বেশি পড়ে। সম্পদের ওপর কম মালিকানা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত অংশগ্রহণ নারীদের অধিকতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।’

তিনি নারীদের জন্য কৃষিজমি বিতরণ, পুত্রসন্তান শর্ত বাতিল, নারী কমিশনের প্রতিবেদন আমলে নেওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে নারীদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ দেন।

সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক বাহরীন খানের সভাপতিত্বে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ, অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার ও সুরাইয়া বেগম। বক্তারা বলেন, প্রান্তিক নারীর ন্যায্য অধিকার একটি বহুমাত্রিক ইস্যু এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা জেন্ডার জাস্টিসকে ট্রানজিশনাল জাস্টিসের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

চতুর্থ অধিবেশন ‘পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, ‘পানি ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সরকারকে দায়িত্বশীল করতে আওয়াজ তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটিজেন মুভমেন্ট ছাড়া পানি সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।’

অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলার প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পানির অধিকার একটি মানবাধিকার এবং নিরাপদ পানির সংকট ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া বড় উদ্বেগের বিষয়।’

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতা ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।

প্যানেল আলোচক অধ্যাপক এম শাহজাহান মণ্ডল ও অধ্যাপক জাসিমউদ্দিন নদী ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিংয়ের সুপারিশ করেন। সমাপনী বক্তব্যে এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, সম্মেলনের সুপারিশগুলো সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনুঘটক হিসেবে কাজ করব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করব।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

প্রান্তিক নারীর অধিকার নিশ্চিত না হলে জলবায়ু ন্যায্যতা অর্জন সম্ভব নয়

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

জলবায়ু বিপর্যয়ে ভূমি, বন ও পানি সম্পদে প্রান্তিক নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে কখনোই প্রকৃত ন্যায্যতা অর্জন করা সম্ভব নয়। পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক কাঠামোই প্রান্তিক নারীর অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা।

রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) এএলআরডি, বেলা ও পানি অধিকার ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সম্মেলনের প্রথম ওয়ার্কিং অধিবেশনে প্রান্তিক নারীর ন্যায্য অধিকার বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এএলআরডি’র উপ-নির্বাহী পরিচালক রওশন জাহান মনি।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারী, বিশেষত গ্রামীণ ও প্রান্তিক নারীদের ওপর বহুগুণ বেশি পড়ে। সম্পদের ওপর কম মালিকানা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত অংশগ্রহণ নারীদের অধিকতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়।’

তিনি নারীদের জন্য কৃষিজমি বিতরণ, পুত্রসন্তান শর্ত বাতিল, নারী কমিশনের প্রতিবেদন আমলে নেওয়া এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইনে নারীদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ দেন।

সাউথ ইস্ট ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক বাহরীন খানের সভাপতিত্বে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. শাইখ ইমতিয়াজ, অধ্যাপক ড. আইনুন নাহার ও সুরাইয়া বেগম। বক্তারা বলেন, প্রান্তিক নারীর ন্যায্য অধিকার একটি বহুমাত্রিক ইস্যু এবং পুরুষতান্ত্রিক সমাজই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

তারা জেন্ডার জাস্টিসকে ট্রানজিশনাল জাস্টিসের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

চতুর্থ অধিবেশন ‘পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও সুশাসন’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত। তিনি বলেন, ‘পানি ব্যবস্থাপনায় সামগ্রিক ও অংশগ্রহণমূলক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং সরকারকে দায়িত্বশীল করতে আওয়াজ তুলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সিটিজেন মুভমেন্ট ছাড়া পানি সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়।’

অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলার প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পানির অধিকার একটি মানবাধিকার এবং নিরাপদ পানির সংকট ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া বড় উদ্বেগের বিষয়।’

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সমন্বয়হীনতা ও আইনের দুর্বল প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।

প্যানেল আলোচক অধ্যাপক এম শাহজাহান মণ্ডল ও অধ্যাপক জাসিমউদ্দিন নদী ব্যবস্থাপনাকে স্বচ্ছ ও স্বয়ংক্রিয় করার পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিংয়ের সুপারিশ করেন। সমাপনী বক্তব্যে এএলআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, সম্মেলনের সুপারিশগুলো সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অনুঘটক হিসেবে কাজ করব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে তাদের অধিকার আদায়ে উদ্বুদ্ধ করব।’