ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

রাবির সেই শিক্ষককে অপসারণের দাবি মহিলা পরিষদের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ, কাফির’ বলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অনতিবিলম্বে শিক্ষকতা থেকে অপসারণের দাবি জানানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একইসঙ্গে নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী কর্মণ্ডের প্রতিরোধ ও পুনরাবৃত্তিরোধে সচেতন নাগরিক সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায়।

মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বিবৃতি দেন।

এতে বলা হয়, আমরা তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম যে, গত ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার ফেসবুকে একটি পোষ্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি নারী জাগরণের অগ্রদুত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে ‘মুরতাদ কাফির’ আখ্যা দেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের এই অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছে। মহিলা পরিষদ মনে করে, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যার ওপর ভর করে নারীদের সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক তাদেরই একজন।

বিৃতিতে বলা হয়, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেড়শত বছর আগে নারী মুক্তির যে স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন তার আদর্শ এখনও প্রাসঙ্গিক হওয়ায় নারীর প্রগতি বিরোধী একটি গোষ্টী তাকে ভয় পায়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে যখন আমাদের দেশের মেয়েরা সব ক্ষেত্রে অগ্রসরমান হওয়া আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখন শিক্ষক নামধারী একজন ব্যক্তির এই অপপ্রচার আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে তার শিক্ষকতার যোগ্যতার প্রশ্ন নিয়ে। যখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোকেয়া দিবস পালন করা হচ্ছে, রোকেয়া পদকের প্রবর্তণ করা হয়েছে তখন এই ধরনের অপপ্রচার রাষ্ট্রীয় নীতি বিরোধী কাজ। তাকে নিয়ে শিক্ষক নামধারী একজন ব্যক্তির এই ধরনের অপপ্রচার করার ধৃষ্টতায় নারী সমাজ ক্ষুব্ধ। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহিলা পরিষদ মনে করে, এই ধরনের অপচেষ্টা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করার একটি ষড়যন্ত্র এবং দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার একটি অপতৎপরতা। এই অপপ্রচার সুস্থ সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সমাজের মধ্যে বসবাসকারী নারী বিদ্বেষী গোষ্ঠীর এই ধরণের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্মিলিতভাবে এখনই প্রতিহত করা দরকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই শিক্ষককে অনতিবলম্বে শিক্ষকতা থেকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী বিরোধী, নারী বিদ্বেষী অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সব ধরণের নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধ ও পুনরাবৃত্তিরোধে সচেতন নাগরিক সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। 

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে ইরানের পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের প্রতি কড়া বার্তা

রাবির সেই শিক্ষককে অপসারণের দাবি মহিলা পরিষদের

আপডেট সময় : ০৯:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ, কাফির’ বলায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে অনতিবিলম্বে শিক্ষকতা থেকে অপসারণের দাবি জানানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। একইসঙ্গে নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী কর্মণ্ডের প্রতিরোধ ও পুনরাবৃত্তিরোধে সচেতন নাগরিক সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায়।

মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম এবং সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বিবৃতি দেন।

এতে বলা হয়, আমরা তীব্র ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম যে, গত ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া দিবসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তার ফেসবুকে একটি পোষ্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে তিনি নারী জাগরণের অগ্রদুত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে ‘মুরতাদ কাফির’ আখ্যা দেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের এই অজ্ঞতা ও ধৃষ্টতায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করছে। মহিলা পরিষদ মনে করে, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যার ওপর ভর করে নারীদের সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক তাদেরই একজন।

বিৃতিতে বলা হয়, রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন দেড়শত বছর আগে নারী মুক্তির যে স্বপ্ন দেখিয়ে গেছেন তার আদর্শ এখনও প্রাসঙ্গিক হওয়ায় নারীর প্রগতি বিরোধী একটি গোষ্টী তাকে ভয় পায়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে যখন আমাদের দেশের মেয়েরা সব ক্ষেত্রে অগ্রসরমান হওয়া আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখন শিক্ষক নামধারী একজন ব্যক্তির এই অপপ্রচার আমাদের ভাবতে বাধ্য করছে তার শিক্ষকতার যোগ্যতার প্রশ্ন নিয়ে। যখন রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রোকেয়া দিবস পালন করা হচ্ছে, রোকেয়া পদকের প্রবর্তণ করা হয়েছে তখন এই ধরনের অপপ্রচার রাষ্ট্রীয় নীতি বিরোধী কাজ। তাকে নিয়ে শিক্ষক নামধারী একজন ব্যক্তির এই ধরনের অপপ্রচার করার ধৃষ্টতায় নারী সমাজ ক্ষুব্ধ। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মহিলা পরিষদ মনে করে, এই ধরনের অপচেষ্টা স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করার একটি ষড়যন্ত্র এবং দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্থ করার একটি অপতৎপরতা। এই অপপ্রচার সুস্থ সমাজ গঠনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। সমাজের মধ্যে বসবাসকারী নারী বিদ্বেষী গোষ্ঠীর এই ধরণের সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড সম্মিলিতভাবে এখনই প্রতিহত করা দরকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই শিক্ষককে অনতিবলম্বে শিক্ষকতা থেকে অপসারণের দাবি জানাচ্ছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারী বিরোধী, নারী বিদ্বেষী অপপ্রচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সব ধরণের নারী বিদ্বেষী মৌলবাদী কর্মকাণ্ডের প্রতিরোধ ও পুনরাবৃত্তিরোধে সচেতন নাগরিক সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।