ঢাকা ০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের মাঝে ৬১ দিন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সাময়ে প্রার্থীরা যেমন নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে নানা ধাপে এগিয়ে যাবেন নির্বাচনের দিকে, ইসিও প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির জন্য মাঠ তৈরি করবে, নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ যাচাই করবেন। আর এই সবগুলো কাজের প্রস্তুতি পর্বে হাতে রয়েছে মাত্র ৬১ দিন।

কবে তফসিল ঘোষণা হবে এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যে একটা রোডম‍্যাপ পাওয়ায় প্রাথমিক প্রস্তুতিপর্ব আগেই শুরু করেছে ইসি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে শুরু হয় আরেক প্রশ্ন- নির্বাচনের কতদিন আগে তফসিল হতে হয়।

সেসময় নির্বাচন কমিশনারকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এর কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।’

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর সর্বনিম্ন ৪০, সর্বোচ্চ ৭৮ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে দেখা গেছে। প্রথম নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে হয়েছিল তফসিল ঘোষণার ৬০ দিন পরে, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে (পুনঃতফসিল) হওয়ার ৫৪ দিন পরে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন হয় ৪৭ দিন পরে, ১৯৮৭ সালের নির্বাচন হয় ৬৯ দিন পরে, ১৯৯০ সালের নির্বাচন হয় সর্বোচ্চ ৭৮ দিন পরে, ১৯৯৫ সালের তফসিল ও নির্বাচনের মাঝে ছিল ৫৫ দিন, ১৯৯৬ সালের ৪৭ দিন পরে নির্বাচন হলেও ২০০১ সালের ৪২ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়, ২০০৮ সালে ফখরুদ্দিন সরকার তফসিলের ৪৭ দিন পরে নির্বাচন করে, ২০১৩ সালে আওয়ামী সরকার ৪২ দিন পরে, ২০১৮ সালে ৪৬ দিন ও ২০২৩ সালে ৫৩ দিন পরে নির্বাচন করে।

নিয়ম অনুযায়ী এই ৬১ দিন নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বদলি করার প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচন কমিশন লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব তার বদলি কার্যকর করতে হবে।

বুধবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ ও আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ডিএমপি।

এ সময়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে করণীয় ও আদৌ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু হয় কি-না প্রশ্নে সংস্কার কমিশনের বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারও প্রতি পক্ষপাত না করাটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলা হয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এমনকি গণমাধ্যমও পক্ষপাতদুষ্ট হলে এটা ব্যাহত হতে পারে। ফলে এই সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পারফেক্ট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়তো সম্ভব না, উই আর অল হিউম্যান বিয়িং এবং মানবিক দুর্বলতা আমাদের আছে। সেটা থেকে উত্তরণের জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা বর্তমানের যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচন কমিশন সফল হবে কি-না সেটা ভিন্ন আলাপ, তারা যেন কারোর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ না করেন সেটা নিশ্চিত হলেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে ধরে নেওয়া যায়। গত ৩ নির্বাচনে এই চেষ্টা আমরা দেখিনি। এবার সেটা নিশ্চিত করতে না পারার কোনও কারণ দেখি না।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রীর আত্মহত্যা: নেপাল থেকে মর্মস্পর্শী বার্তা দিলেন শোকাহত আলভী

তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচনের মাঝে ৬১ দিন

আপডেট সময় : ০৮:৫৩:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিন ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সাময়ে প্রার্থীরা যেমন নিয়ম মেনে পর্যায়ক্রমে নানা ধাপে এগিয়ে যাবেন নির্বাচনের দিকে, ইসিও প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ তৈরির জন্য মাঠ তৈরি করবে, নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ যাচাই করবেন। আর এই সবগুলো কাজের প্রস্তুতি পর্বে হাতে রয়েছে মাত্র ৬১ দিন।

কবে তফসিল ঘোষণা হবে এ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই ছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যে একটা রোডম‍্যাপ পাওয়ায় প্রাথমিক প্রস্তুতিপর্ব আগেই শুরু করেছে ইসি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে শুরু হয় আরেক প্রশ্ন- নির্বাচনের কতদিন আগে তফসিল হতে হয়।

সেসময় নির্বাচন কমিশনারকে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এর কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।’

এ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর সর্বনিম্ন ৪০, সর্বোচ্চ ৭৮ দিনের মধ্যে নির্বাচন হতে দেখা গেছে। প্রথম নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে হয়েছিল তফসিল ঘোষণার ৬০ দিন পরে, ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে (পুনঃতফসিল) হওয়ার ৫৪ দিন পরে, ১৯৮৬ সালের নির্বাচন হয় ৪৭ দিন পরে, ১৯৮৭ সালের নির্বাচন হয় ৬৯ দিন পরে, ১৯৯০ সালের নির্বাচন হয় সর্বোচ্চ ৭৮ দিন পরে, ১৯৯৫ সালের তফসিল ও নির্বাচনের মাঝে ছিল ৫৫ দিন, ১৯৯৬ সালের ৪৭ দিন পরে নির্বাচন হলেও ২০০১ সালের ৪২ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হয়, ২০০৮ সালে ফখরুদ্দিন সরকার তফসিলের ৪৭ দিন পরে নির্বাচন করে, ২০১৩ সালে আওয়ামী সরকার ৪২ দিন পরে, ২০১৮ সালে ৪৬ দিন ও ২০২৩ সালে ৫৩ দিন পরে নির্বাচন করে।

নিয়ম অনুযায়ী এই ৬১ দিন নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে বদলি করার প্রয়োজন মনে করলে নির্বাচন কমিশন লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে। এরপর যত দ্রুত সম্ভব তার বদলি কার্যকর করতে হবে।

বুধবার ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সব ধরনের বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ ও আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ডিএমপি।

এ সময়ে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে করণীয় ও আদৌ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু হয় কি-না প্রশ্নে সংস্কার কমিশনের বদিউল আলম মজুমদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কারও প্রতি পক্ষপাত না করাটাকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলা হয়। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন কমিশন এমনকি গণমাধ্যমও পক্ষপাতদুষ্ট হলে এটা ব্যাহত হতে পারে। ফলে এই সংস্থাগুলোকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। পারফেক্ট লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়তো সম্ভব না, উই আর অল হিউম্যান বিয়িং এবং মানবিক দুর্বলতা আমাদের আছে। সেটা থেকে উত্তরণের জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা বর্তমানের যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচন কমিশন সফল হবে কি-না সেটা ভিন্ন আলাপ, তারা যেন কারোর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ না করেন সেটা নিশ্চিত হলেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে ধরে নেওয়া যায়। গত ৩ নির্বাচনে এই চেষ্টা আমরা দেখিনি। এবার সেটা নিশ্চিত করতে না পারার কোনও কারণ দেখি না।’